শনিবার ২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Advertise with us

যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিতে পিছিয়েছে চীন, এগোচ্ছে বাংলাদেশ

অর্থনীতি ডেস্ক   |   বৃহস্পতিবার, ০২ অক্টোবর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ২৫৪ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিতে পিছিয়েছে চীন, এগোচ্ছে বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ক্রমে অবস্থান হারাচ্ছে প্রধান রপ্তানিকারক দেশ চীন। দেশটির হারানো অবস্থানে হিস্যা বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ। মোট রপ্তানি আয়, রপ্তানির পরিমাণ ও পণ্যমূল্য– সব বিবেচনায় চীনের অবস্থান দুর্বল হচ্ছে। বিপরীতে শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশ। অবশ্য অর্থমূল্যের পরিমাণে চীনের রপ্তানি এখনও বাংলাদেশের দ্বিগুণেরও বেশি।

মার্কিন পাল্টা শুল্ক কাঠামোতে চীন এবং অন্য রপ্তানিকারক প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ফলে আগামীতে চীনা হিস্যা বেশ ভালোভাবেই বাংলাদেশ বুঝে নেবে বলে আশা করছেন রপ্তানিকারক উদ্যোক্তারা। মার্কিন নতুন শুল্ক কাঠামোয় চীনা পণ্যের শুল্ক ১৪৫ শতাংশের মতো। অবশ্য প্রকৃত শুল্ক কত, তা এখনও কোনো পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি। বাংলাদেশের পণ্য পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশ। আবার মার্কিন কাঁচামালে উৎপাদিত পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধার মতো বড় শুল্কছাড়ও পাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্র । মোট পোশাক রপ্তানি আয়ের ১৮ থেকে ২০ শতাংশ আসে দেশটি থেকে।

যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) ২০১৫ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত এক দশকের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি মূল্যের বিবেচনায় চীনা তৈরি পোশাকের রপ্তানি কমেছে ৪৬ শতাংশ। এ সময় বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ৩৬ শতাংশ। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানির পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৫৪ কোটি ডলার। গত বছর তা নেমে আসে এক হাজার ৬৫১ কোটি ডলারে। অন্যদিকে ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৫৪০ কোটি ডলার, যা গত বছর ৭৩৪ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে।

জানতে চাইলে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক এবং ডেনিম এক্সপার্টের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল গতকাল বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিতে চীন ক্রমে দুর্বল হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন ২০১৭ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় আসেন, সে সময় থেকেই চীন-যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক লড়াই শুরু হয়। তখন থেকেই চীনা পোশাকের রপ্তানি কমতে থাকে। আগামীতে আরও কমবে। সেখানে বাংলাদেশ আরও ভালো করবে। তবে আমাদের মূল্য সংযোজিত পণ্যে মনোযোগ বাড়াতে হবে। এখন ভলিউমে বেশি রপ্তানি করেও কম মূল্য পাই আমরা। ভিয়েতনাম কিংবা অন্যান্য দেশ কম রপ্তানি করেও বেশি মূল্য পায়। এখন ভলিউমে যে পরিমাণ রপ্তানি করি, তাতে যদি মূল্য সংযোজন করা যেত, তাহলে একই পরিমাণ রপ্তানি থেকে বড় অঙ্কের রপ্তানি আয় সম্ভব হতো।’

অন্যদিকে পরিমাণে গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা পোশাকের রপ্তানি কমেছে ১৮ শতাংশেরও বেশি, যেখানে বাংলাদেশের বেড়েছে সাড়ে ৭ শতাংশের মতো। ২০১৫ সালে চীনা পোশাক রপ্তানি হয়েছিল এক হাজার ১৩৮ মিটার। গত বছর তা ৯২৯ মিটারে নেমে আসে। ২০১৫ সালে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ১৮৭ মিটার, যা গত বছর ২৩৭ মিটারে উন্নীত হয়।

একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনা পণ্যপ্রতি দর বা ইউনিট প্রাইসও কমেছে ৩৪ শতাংশ। অন্যদিকে বাংলাদেশের বেড়েছে সাড়ে ৭ শতাংশের মতো। উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, দশকের শুরুতে ২০১৫ সালে চীনা পণ্যের গড় ইউনিট প্রাইস ছিল দুই ডলার ৬৮ সেন্ট। ২০২৪ সালে তা কমে এক ডলার ৭৮ সেন্টে নেমে আসে। যেখানে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের পোশাকের ইউনিটপ্রতি গড় দর ছিল দুই ডলার ৮৯ সেন্ট। তা থেকে বেড়ে গত বছর তিন ডলার ১০ সেন্টে উন্নীত হয়।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us
সম্পাদক
শেখ জাহাঙ্গীর আলম
যোগাযোগ