শুক্রবার ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Advertise with us

ভিয়েতনামে বাংলাদেশি আলু রপ্তানির অনুমোদন

অর্থনীতি ডেস্ক   |   রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৬৯ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ভিয়েতনামে বাংলাদেশি আলু রপ্তানির অনুমোদন

বাংলাদেশি আলুচাষি ও রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভিয়েতনামের বাজারে আলু রপ্তানির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ। গত শুক্রবার ভিয়েতনামের কৃষি ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ থেকে আলু আমদানির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। হ্যানয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এতে বলা হয়েছে, ভিয়েতনামের আইন অনুযায়ী কোনো দেশ থেকে কৃষিপণ্য আমদানির আগে দেশটির কৃষি ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে বিস্তারিত তথ্যসহ নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হয়। বাংলাদেশ এই নিয়ম মেনে ২০২৫ সালের মে মাসে ভিয়েতনামে আলু রপ্তানির প্রক্রিয়া শুরু করে। হ্যানয়ে বাংলাদেশের দূতাবাস, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত প্রচেষ্টায় নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে ভিয়েতনাম সরকার বাংলাদেশের আলুকে আমদানির জন্য যোগ্য ঘোষণা করে।

ভিয়েতনামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, এটি বাংলাদেশের কৃষি খাতের জন্য একটি মাইলফলক। এই অনুমোদনের ফলে আমাদের আলু রপ্তানিকারকদের সামনে বিশাল এক সুযোগ তৈরি হলো। এর সরাসরি সুফল পাবেন স্থানীয় কৃষকরা। ভিয়েতনামে আলুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে নিয়মিত আলু রপ্তানি শুরু হলে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।

দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, আলুর পাশাপাশি অন্যান্য উদ্ভিদজাত পণ্য, বিশেষ করে তিল রপ্তানির প্রক্রিয়াও চলছে। গতকাল শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ কয়েকটি খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে। এই দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ২২ শতাংশ কম।

অন্যদিকে দেশের উৎপাদন এলাকাগুলোয় বিশেষ করে রংপুর, ঠাকুরগাঁও, মুন্সীগঞ্জে পাইকারি পর্যায়ে কৃষক প্রতিকেজি আলু বিক্রি করছেন ছয় থেকে আট টাকায়। যেখানে প্রতিকেজি আলু উৎপাদনে গড়ে খরচ হয়েছে ১৫ থেকে ১৬ টাকা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ বলেন, উচ্চ ফলনশীল, রপ্তানি ও শিল্পে ব্যবহারযোগ্য আলুর নতুন জাত সম্প্রসারণে কাজ করা হচ্ছে। নতুন কিছু জাত থেকে একই পরিমাণ জমি থেকে দ্বিগুণেরও বেশি আলু উৎপাদন সম্ভব।

রপ্তানি বাড়ানোর জন্য কিছু চ্যালেঞ্জের কথা জানান কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, রপ্তানির খবর কিছুটা স্বস্তি মিললেও কৃষকের প্রচুর লোকসান হয়েছে। উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় না হলে এই অবস্থা থেকে বের হওয়া সম্ভব হবে না। যথাযথ অবকাঠামো ও হিমাগার, প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের ঘাটতি আছে। বাজার ব্যবস্থাপনায় সরকারি ও কৃষক সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এসব জটিলতা দূর হলে বাংলাদেশি আলুর রপ্তানি বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব হবে এবং চাষিরা স্থিতিশীল আয়ের সুযোগ পাবেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us
সম্পাদক
শেখ জাহাঙ্গীর আলম
যোগাযোগ