শুক্রবার ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Advertise with us

ধেয়ে আসছে ঝড়, ঝুঁকিতে লাখো বাসিন্দা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   |   বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ২৫০ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ধেয়ে আসছে ঝড়, ঝুঁকিতে লাখো বাসিন্দা

গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় বাড়িঘর ধ্বংস হওয়ায় এবং উপত্যকার বড় অংশ দখলে চলে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে ফিলিস্তিনিরা উপকূলের বালুময় সংকীর্ণ এলাকায় তাঁবুতে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। এরই মধ্যে শীতে কাঁপছে পুরো গাজা। এবার তাদের সে দুর্ভোগে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় বায়রন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এতে সাড়ে আট লাখের বেশি মানুষ সরাসরি দুর্ভোগে পড়বে।

ফিলিস্তিনের আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, এ ঘূর্ণিঝড় বাস্তুচ্যুতদের বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে ফেলতে পারে। তীব্র বাতাসে উড়ে যেতে পারে অনেক তাঁবু, দেখা দিতে পারে আকস্মিক বন্যা। তীব্র ঠান্ডা চরম ক্ষতির কারণ হতে পারে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য। এরই মধ্যে ঝড়ের প্রভাবে ভূমধ্যসাগরের পানির স্তর ওপরে উঠতে শুরু করেছে। সৈকতের কাছে থাকা অনেক তাঁবু তলিয়ে গেছে। ঝড়ের প্রভাবে গাজায় বৃষ্টিতে অনেক এলাকায় পানি জমেছে। ভোগান্তি বেড়েছে বাসিন্দাদের।

গাজা সিটির মেয়র ইয়াহিয়া আল-সাররাজ বলেন, পানির স্তর বেড়ে বন্যা সৃষ্টি করেছে। এতে অনেক সড়ক ও তাঁবু তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘ঝড় আসছে। কিন্তু তা মোকাবিলার জন্য জিনিসপত্র নেই। প্রায় সাড়ে আট লাখ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি আগামী দিনগুলোতে বন্যার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন।’ মেয়র বলেন, এ ঝড় ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক বিপর্যয় নিয়ে আসছে।

ত্রাণ না আটকাতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান
সেভ দ্য চিলড্রেন গাজায় তাঁবুর খুঁটি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সেই সঙ্গে সংগঠনটি কম্বল, শীতের কাপড়ের প্রবেশের অনুমতি দিতে বলেছে। সেভ দ্য চিলড্রেনের আঞ্চলিক পরিচালক আহমেদ আলহান্দাওই বলেন, বরফ জমাটবাঁধা পরিবেশে কোনো শিশুকে পুরো রাত জাগিয়ে রাখা উচিত নয়। ফিলিস্তিনি শিশুদের এখন জরুরি ভিত্তিতে তাঁবু, লোহার খুঁটি, আশ্রয়কেন্দ্র, গরম কাপড়, কম্বল ও বিছানার প্রয়োজন।

জীবনযাত্রা ভয়াবহ
গাজার গণমাধ্যম অফিস বলছে, উপত্যকায় ঝড় বায়রনের প্রভাবে প্রায় দুই লাখ ৮৮ হাজার ফিলিস্তিনি পরিবার আশ্রয়হীন। আড়াই লাখ তাঁবু ও ভ্রাম্যমাণ ঘর গাজায় প্রবেশের কথা ছিল। ছয় হাজার ‘ত্রাণবোঝাই’ ট্রাক সীমান্তে আটকে আছে। গণমাধ্যম অফিসের পরিচালক ইসমাইল আল-থাওয়াবতা বলেন, ‘আমরা বিশ্ব, (মার্কিন প্রেসিডেন্ট) ডোনাল্ড ট্রাম্প ও (জাতিসংঘের) নিরাপত্তা পরিষদের কাছে জরুরি আবেদন জানাই, যাতে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।’

আল-শিফা হাসপাতালে গণকবর
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের সঙ্গে কাজ করা দলগুলো গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একটি গণকবরের সন্ধান পেয়েছে। ওই হাসপাতালে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েল বারবার আক্রমণ করে। বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ ওই স্থান থেকে ৩০টিরও বেশি মৃতদেহ উদ্ধারে কাজ করছে। এ অবস্থায় গতকাল বুধবার এক দিনে আরও দুই ফিলিস্তিনি ইসরায়েলের হামলায় নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েলের হেফাজতে তরুণ ফিলিস্তিনির মৃত্যু
ইসরায়েলের হেফাজতে এক ফিলিস্তিনি বন্দি মারা গেছেন। সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে গতকাল বুধবার সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানায়, ২১ বছর বয়সী আব্দুল রহমান সুফিয়ান মুহাম্মদ আল-সাবাতিন নামের ওই ফিলিস্তিনি যুবক বেথলেহেমের পশ্চিমে হুসান শহরের বাসিন্দা ছিলেন। ডিটেইনিজ অ্যাফেয়ার্স কমিশন ও ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স সোসাইটি তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। জেরুজালেমের শায়ারে জেদেক মেডিকেল সেন্টারে তিনি মারা যান। আল-সাবাতিনকে গত ২৪ জুন আটক করা হয়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ইসরায়েলের হেফাজতে ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের হেফাজতে মারা যাওয়া বন্দির সংখ্যা ৮৫ তে দাঁড়াল।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us
সম্পাদক
শেখ জাহাঙ্গীর আলম
যোগাযোগ