বৃহস্পতিবার ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Advertise with us

কোকা-কোলা ফাউন্ডেশনের আইডব্লিউইটি প্রকল্পে কৃষিতে ভাগ্য ফিরল আজমেরের

অর্থনীতি ডেস্ক   |   বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ৯৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

কোকা-কোলা ফাউন্ডেশনের আইডব্লিউইটি প্রকল্পে কৃষিতে ভাগ্য ফিরল আজমেরের

নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার চকগোবিন্দপুর গ্রামের ৫৪ বছর বয়সী নার্সারি মালিক মো. আজমের আলী একসময় অনেক পরিশ্রম করেও আর্থিক সংকটে ভুগতেন। তিনি ও তার স্ত্রী চারা উৎপাদনে সারাদিন নিরলস পরিশ্রম করলেও তাদের আয় ছিল খুব সামান্য। এই আয়ে পাঁচ সদস্যের পরিবারের দায়িত্ব সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছিল।

২০১৯ সালে দ্য কোকা–কোলা ফাউন্ডেশন (টিসিসিএফ) ও বিশ্বব্যাংকের ২০৩০ ওয়াটার রিসোর্সেস গ্রুপের (২০৩০ ডব্লিউআরজি) অর্থায়নে পরিচালিত আইডব্লিউইটি প্রকল্পের সহায়তায় আজমের আলী প্রতিষ্ঠা করেন ‘আশা ফারমার্স হাব’। তার ব্যবসায়িক যাত্রায় এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। আইডব্লিউইটি থেকে পাওয়া প্রশিক্ষণ ও হাতে–কলমে প্রাপ্ত দিকনির্দেশনা কাজে লাগিয়ে বীজ থেকে চারা উৎপাদন ও সেই চারাকে গাছে পরিণত করার দক্ষতা বৃদ্ধি করেন আজমের। বর্তমানে তার নার্সারিতে উন্নতজাতের আম এবং নানান ধরনের সবজির চারা উৎপন্ন হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন ফসলের গুণগত মান ও উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে; তেমনি পরিবহনের সময় চারার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার হারও কমেছে।

আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ব্যবহারে আজমের আলীর হাবটি কৃষি উপকরণ বাণিজ্যে বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যাতে উপকৃত হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরাও। প্রকল্পটির সুফল ভোগ করছেন হাজারো গ্রামীণ কৃষক। পানি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তারা দক্ষতা অর্জন করছেন এবং অধিক সংখ্যক কৃষককে প্রকল্পে অংশগ্রহণ করতে অনুপ্রাণিত করছেন। আইডব্লিউইটি উদ্যোগটি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)–১২–এর দায়িত্বশীল ভোগ ও উৎপাদন এবং এসডিজি–১৭–এর অংশীদারত্বভিত্তিক টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

নিজের অবস্থার পরিবর্তনে আইডব্লিউইটি প্রকল্পের অবদান নিয়ে আজমের বলেন, ‘একটি হাব প্রতিষ্ঠার জন্য নানাবিধ পরামর্শ, আর্থিক সহায়তা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সাহায্য করে আমার পাশে ছিল আইডব্লিউইটি প্রকল্প। একজন ব্যবসায়ী হিসেবে আমার অবস্থার পরিবর্তন ও ব্যবসার উন্নতিতে এই প্রকল্পের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমার এখানে নিয়মিত ৩ জন পুরুষ ও ২ জন নারী কাজ করেন। তবে ভরা মৌসুমে ৮ থেকে ১০ জন পুরুষ ও নারী অনিয়মিতভাবে ৮ ঘণ্টা করে কাজ করেন।’

২০২৩ সালে হাব থেকে প্রচুর আয় করেন আজমের, যা ছিল তার অতীতের আয়ের আশি গুণেরও বেশি। উদ্ভাবন ও কমিউনিটি–কেন্দ্রিক উন্নয়নের মাধ্যমে অর্জিত আজমের আলীর সফলতা কৃষি অগ্রগতির একটি বাস্তব উদাহরণ, যেখানে প্রচলিত পদ্ধতি ও আধুনিকতার সেতুবন্ধন ঘটিয়ে সমৃদ্ধ করা হয়েছে স্থানীয় কৃষিব্যবস্থা। বর্তমানে নিজ পরিবারের ব্যয় বহনের পাশাপাশি দশ থেকে পনেরো জন কর্মীর জীবিকার ব্যবস্থাও করছেন তিনি।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us
সম্পাদক
শেখ জাহাঙ্গীর আলম
যোগাযোগ