
রাজনীতি ডেস্ক | শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | ৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

হাম সংক্রমণে শিশুর মৃত্যু এবং জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকার লুকোচুরি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সত্য লুকিয়ে সমাধান সম্ভব নয়। সংকট স্বীকার করলে, সবাই মিলে আলোচনা করে মোকাবিলা সহজ হবে।
শনিবার রাজধানীর শ্যামলীতে শিশু হাসপাতাল এবং আসাদগেট পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেছেন তিনি। শিশু হাসপাতালের পরিবেশকে ‘ডিজাস্টার’ বলে আখ্যা দেন জামায়াত আমির। দেশের একমাত্র বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালে এমআরআই ও সিটি স্ক্যানের মতো জরুরি সেবা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা।
তিনি বলেন, দেশের একমাত্র বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালে শয্যা মাত্র ৭০০। অথচ এখানে সারাদেশের রোগী আসে। পরিচ্ছন্নতা সন্তোষজনক হলেও অবকাঠামোগত ও যন্ত্রপাতির সংকট ভয়াবহ। নবজাতকদের এনআইসিইউ ও পিআইসিইউ সুবিধা থাকলেও এমআরআই, সিটিস্ক্যান নেই। মুমূর্ষু শিশুদের এসব পরীক্ষার জন্য বাইরে পাঠাতে হয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
সরকারের অনুদানে পরিচালিত হাসপাতালটিতে বরাদ্দ গত বছর ৩০ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ২৮ কোটি টাকা করা হয়। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বাজেট যখন বাড়ছে, তখন স্বাস্থ্য খাতের এই বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দ কমানো হলো কেন?
চিকিৎসকরা বিরোধীদলীয় নেতাকে জানান, ব্রঙ্কোস্কোপ যন্ত্র নেই। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, একটি ব্রঙ্কোস্কোপ যন্ত্র হাসপাতালে দেওয়ার চেষ্টা করবেন। রাজনীতি মানে শুধু সরকারি বরাদ্দ দিয়ে কাজ করা নয়, বরং নিজের পকেটের টাকায় জনগণের কল্যাণে পাশে দাঁড়ানো।
শফিকুর রহমান বলেন, হাম পরিস্থিতি যা দেখলাম তা উদ্বেগজনক। শয্যার চেয়ে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। পুরো স্বাস্থ্য খাত বর্তমানে এক নাজেহাল অবস্থায় রয়েছে। হাসপাতালগুলো সেবামূলক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং বাজারের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে।
সরকারের সমালোচনায় জামায়াত আমির বলেন, অনেক উন্নয়ন পরিকল্পনা শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। হামের মতো ব্যাধির চিকিৎসায় আইসিইউর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। সরকারের প্রস্তুতি দেখে মনে হয় তারা নির্বিকার। সংসদে সরকারি দলের কথা শুনলে মনে হয় দেশে কোনো সমস্যাই নেই। তারা বাস্তবতাকে আড়াল করছেন।
হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে আসাদগেট পেট্রোল পাম্পে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়ানো গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালক ও পাম্প মালিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, জ্বালানি সংকটের দায় সরকারকে দিচ্ছি না। যুদ্ধের কারণে তৈরি হয়েছে। এখানে লুকোচুরির কী আছে? তারপরও লুকোচুরি করা হচ্ছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১২ আসনের এমপি সাইফুল আলম খান মিলন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
