
জাতীয় ডেস্ক | সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | ২০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে রূপান্তর বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ৷ এ লক্ষ্য অর্জনে বিভিন্ন মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে বলেও মন্ত্রী জানান।
সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান ৷ এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। সোমবারের প্রশ্ন উত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়৷
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে অধিকতর শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একগুচ্ছ বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে রূপান্তর। এ লক্ষ্য অর্জনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয় গুলোকে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংযত নীতি অনুসরণ, অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় হ্রাস, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থান শক্তিশালী করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দুর্বল ব্যাংকের অবস্থা মূল্যায়ন, তদারকি জোরদার এবং আর্থিক অনিয়ম ও পাচারকৃত সম্পদ উদ্ধারে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির জন্য কর ব্যবস্থাকে সহজ, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করা, করজাল সম্প্রসারণ এবং কর ফাঁকি হ্রাসে পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যবসা পরিবেশ উন্নয়ন, বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজীকরণ, বেসরকারি খাতকে উৎসাহ প্রদান ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগে সহায়তা এবং রপ্তানিমুখী কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে ফ্যামিলি কার্ড, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মা ও শিশু সহায়তাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধি এবং জিটুপি পদ্ধতিতে সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, ই-হেলথ কার্ড, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ ইত্যাদি কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সুশাসন ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা জোরদার করে ব্যয়ের স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে খাদ্য, কৃষি, জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখা হয়েছে। সুতরাং, বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করায় লক্ষ্যে স্থিতিশীলতা, সংস্কার, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা ও সুশাসনভিত্তিক সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবে।
