বৃহস্পতিবার ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

চীনের সহযোগিতার ঘোষণা, হরমুজ না খুলে যুদ্ধ শেষ করতে রাজি ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   |   মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৩৫ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

চীনের সহযোগিতার ঘোষণা, হরমুজ না খুলে যুদ্ধ শেষ করতে রাজি ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালির বড় অংশ বন্ধ থাকলেও ইরান যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত বলে সহযোগীদের জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রণালিটি খোলার অভিযান তিনি পরবর্তী সময়ের জন্য তুলে রাখতে চান।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সোমবার এমন তথ্য জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। এর কয়েক ঘণ্টা পর মঙ্গলবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেইজিং এবং পাকিস্তান ইরানের বিষয়ে তাদের সহযোগিতা আরও ‘শক্তিশালী’ করবে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ও তাঁর সহযোগীরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, নৌপথটি পুনরায় খুলে দেওয়ার অভিযান নির্ধারিত চার থেকে ছয় সপ্তাহের সময়সীমাকে ছাড়িয়ে যাবে। তাই তিনি প্রথমে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও নৌবাহিনীকে বিধ্বস্ত করার ওপর মনোনিবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরবর্তীতে কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি খোলার ব্যবস্থা করবেন।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তেহরান গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। এরপর থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। প্রাইস-ট্র্যাকিং সার্ভিস ‘গ্যাসবাডি’র তথ্য অনুযায়ী, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা পর্যায়ে গ্যাসোলিনের গড় দাম গত তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রতি গ্যালন ৪ ডলার ছাড়িয়েছে।

যুদ্ধ শেষ করার আলোচনায় বড় অগ্রগতি হয়েছে বলে সোমবার দাবি করেন ট্রাম্প। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যদি কোনো চুক্তি না হয় এবং হরমুজ প্রণালি যদি অবিলম্বে ব্যবসার জন্য খুলে দেওয়া না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, তেলকূপ এবং খার্গ দ্বীপ সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেবে।

সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে গত এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে কয়েক হাজার সৈন্য মোতায়েন করেছে। জার্নালের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, স্থল অভিযানের এই প্রস্তুতি সম্ভবত মার্কিন শর্ত মেনে যুদ্ধ শেষ করতে তেহরানকে চাপে ফেলার একটি কৌশল।

তবে যুদ্ধ শেষ করার প্রচেষ্টা আরও জটিল হয়েছে বলে সোমবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। সেখানে বলা হয়েছে, ইরানের নেতৃত্বের ওপর ধারাবাহিক হামলার কারণে তেহরানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমান নেতাদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের আলোচনার বিষয়টি কঠিন হয়ে পড়েছে।

টাইমসের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন ও পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নেতৃত্বের ওপর এই হামলার ফলে তেহরানের পক্ষে বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক হামলা সমন্বয় করার ক্ষমতাও কমে গেছে।

সহযোগিতার ঘোষণা চীনের
এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী- মঙ্গলবার বেইজিং সফরে গেছে পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধিদল। এই দলে আছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ‘অর্থবহ আলোচনা’ আয়োজন করতে প্রস্তুত।

সফরে শীর্ষ চীনা কূটনীতিক ওয়াং ই’র সঙ্গে ইশহাক দারের আন্তর্জাতিক ও দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে আলোচনার কথা আছে। এ নিয়ে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেছেন, চীন ও পাকিস্তান ‘সব সময়ের’ কৌশলগত অংশীদার। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইরান পরিস্থিতির বিষয়ে কৌশলগত যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদার করবেন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন প্রচেষ্টা গ্রহণ করবেন।

চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় গত রোববার সৌদি আরব, মিশর ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনার পর ইশহাক দার বেইজিং সফর করছেন। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়াসহ চলমান যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন দেশের উদ্বেগ বাড়ছে।

চীন ইরানের অন্যতম প্রধান অংশীদার হলেও যুদ্ধে তেহরানকে কোনো সামরিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেয়নি। বরং বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে আসছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us
সম্পাদক
শেখ জাহাঙ্গীর আলম
যোগাযোগ