
নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

সমাপ্ত ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বৈধ পথে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এক অর্থবছরে এটিই বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। আগের ২০২৪–২৫ অর্থবছরে যেখানে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার, সেখানে এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এই প্রবৃদ্ধির মধ্যেই সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, রেমিট্যান্স সংগ্রহে দেশের সব ব্যাংককে ছাড়িয়ে শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু জুন মাসেই বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৪৪১ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। কোনো একক ব্যাংকের মাধ্যমে এটিই সর্বোচ্চ সংগ্রহ। দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর আধিপত্য থাকলেও এবার রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের শীর্ষে ওঠা ব্যাংকিং খাতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবাসীদের জন্য সহজতর সেবা, বিস্তৃত এজেন্ট নেটওয়ার্ক, দ্রুত অর্থ বিতরণ এবং সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে কৃষি ব্যাংকের প্রতি প্রবাসীদের আস্থা বেড়েছে। পাশাপাশি বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে সরকারের দেওয়া ২.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনাও রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিদায়ী অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানো এই বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, আমদানি ব্যয় মেটানো, ব্যাংকিং খাতে তারল্য বাড়ানো এবং ডলারের বাজারে চাপ কমাতে রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে দেশে এসেছে ২ দশমিক ৮১৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স। মে মাসে এসেছিল ৩ দশমিক ৪৪২ বিলিয়ন ডলার। ফলে এক মাসের ব্যবধানে রেমিট্যান্স ১৮ দশমিক ১১ শতাংশ কমেছে। তবে আগের বছরের একই মাসের তুলনায় জুনের রেমিট্যান্স প্রায় স্থিতিশীল ছিল; কমেছে মাত্র শূন্য দশমিক ১২ শতাংশ।
ব্যাংকভিত্তিক হিসাবে জুন মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। ব্যাংকটির মাধ্যমে এসেছে ৪৪১ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন ডলার।দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। ব্যাংকটির মাধ্যমে এসেছে ৩৪৯ দশমিক ২৯ মিলিয়ন ডলার।তৃতীয় অবস্থানে থাকা অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি সংগ্রহ করেছে ৩২৫ দশমিক ৮০ মিলিয়ন ডলার।
এ ছাড়া ট্রাস্ট ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে।
দেশভিত্তিক হিসাবে পুরো অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে সৌদি আরব থেকে। দেশটি থেকে এসেছে ৫ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য, যেখান থেকে এসেছে ৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি থেকে এসেছে ৪ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার।
এরপর রয়েছে মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। এই পাঁচ দেশ থেকেই বাংলাদেশের মোট রেমিট্যান্সের বড় অংশ এসেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের পাঠানো অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে রয়েছে।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে জুন মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে এসেছে ১ দশমিক ৪৭৬ বিলিয়ন ডলার, যা জুন মাসের মোট রেমিট্যান্সের ৫২ দশমিক ৩৬ শতাংশ।দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। এ বিভাগে এসেছে ৭৯৯ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন ডলার।তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সিলেট বিভাগ। সেখানে এসেছে ২২৫ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার।
জেলাভিত্তিক হিসাবেও শীর্ষে রয়েছে ঢাকা জেলা। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও সিলেট। এসব জেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে কর্মরত থাকায় রেমিট্যান্স প্রবাহও তুলনামূলক বেশি।
