Advertise with us
শিরোনাম
Price Sensitive Information for Bay Leasing & Investment Limited স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য নীতিমালা প্রণয়নে সম্পাদকদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী ইরাক-ইয়েমেন থেকে সৌদিতে হামলা করেছে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠী ব্রাজিলে বিদেশি হস্তক্ষেপ মানবে না চীন, লুলাকে শি মেসি যতদিন ইচ্ছা ততদিন খেলবে: ডি মারিয়া সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত: প্রধানমন্ত্রী ৬০ দেশে নতুন মার্কিন শুল্ক, বাংলাদেশের ওপর ১০% সব দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার ককরোচ জনতা পার্টির ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে প্রিয়াঙ্কা, বিজয়, সোনাক্ষীদের প্রতিক্রিয়া মেসি কি তবে ব্রাজিলেরও? গবেষণায় উঠে এলো নতুন তথ্য
Advertise with us

ফিলিপাইন কি সন্ত্রাসবাদের হটস্পট, কোন গোষ্ঠীগুলো সক্রিয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   |   বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ৫২৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ফিলিপাইন কি সন্ত্রাসবাদের হটস্পট, কোন গোষ্ঠীগুলো সক্রিয়

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই সৈকতে হামলার ঘটনার আগে দুই বন্দুকধারী সাজিদ ও নাভিদ আকরাম ফিলিপাইনে ভ্রমণ করেছিলেন। ম্যানিলা ও ক্যানবেরার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন দেশটিতে এই দুজনের গন্তব্য ছিল মিন্দানাও দ্বীপ। প্রশ্ন উঠেছে, তারা সেখানে কেন গিয়েছিলেন। এই অঞ্চলের সঙ্গে ‘ইসলামি চরমপন্থার’ কি সম্পর্ক আছে।

ফিলিপাইনের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ১ নভেম্বর বাবা-ছেলে (সাজিদ-নাভিদ) ম্যানিলায় পৌঁছান। সেখানে তারা মিন্দানাও দ্বীপের দাভাও শহরে ভ্রমণ করেন। তাদের সেখানকার কার্যক্রম তদন্তাধীন। ফলে এই মুহূর্তে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তারা সিডনিতে ফিরে যান গত ২৮ নভেম্বর।

দক্ষিণ ফিলিপাইন কি সন্ত্রাসবাদের হটস্পট
দীর্ঘদিন ধরে ইসলামি বিচ্ছিন্নতাবাদী, কমিউনিস্ট বিদ্রোহী এবং জিহাদী গোষ্ঠীগুলোর জন্য দক্ষিণ মিন্দানাও অঞ্চল উর্বর ভূমি হিসেবে পরিচিত। এই অঞ্চলের গোষ্ঠীগুলো আল-কায়েদা, জেমাহ ইসলামিয়া এবং ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে সংযুক্ত।

অভিযোগ আছে, রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক সুবিধার কারণে এই অঞ্চলের মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদীরা দীর্ঘদিন ধরে একটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে আসছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অধিকাংশ গোষ্ঠী উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে। যদিও মাঝে মধ্যে কিছু সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

উল্লেখযোগ্য সবশেষ ঘটনাটি ২০১৭ সালের। তখন আইএস সমর্থিত সন্ত্রাসীরা মিন্দানাওয়ের মারাউই শহর দখল করে। তারা পাঁচ মাস ধরে শহরটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিল। এরপর ফিলিপাইনের সেনাবাহিনী অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। ওই সংঘাতে বহু মানুষ নিহত হয়, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি গৃহহীন হয় কয়েক হাজার মানুষ। বেশিরভাগ ফিলিপিনো ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী হলেও মিন্দানাও অঞ্চলে মুসলিম সংখ্যালঘুর বসবাস।

কেন দক্ষিণ ফিলিপাইন
মিন্দানাও এমন একটি দূরবর্তী দ্বীপ যেখানে ঘন বনের পাশাপাশি দুর্গম পর্বতমালা আছে। যা গেরিলা, আবু সায়্যাফ ও আইএস সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর কাছে থেকে প্রশিক্ষণ নিতে বিদেশি যোদ্ধাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। সামুদ্রিক এলাকা হওয়ায় প্রতিবেশী দেশ যেমন ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে অস্ত্র ও বিদেশি যোদ্ধাদের যাতায়াত সহজ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এখানে চরমপন্থী কার্যক্রম কমে গেছে, তবে তা একেবারে বিলীন হয়নি। ফিলিপাইনে আইএস-এর অবশিষ্ট অংশ প্রধানত মারাউই এবং এর আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। কংকর্ড কনসাল্টিংয়ের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সন্ত্রাস ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বিশ্লেষক টড এলিয়ট বলেন, মারাউই এখনো জিহাদী সমর্থনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

কোন সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয়
যদিও সক্ষমতা অনেকটাই কমে গেছে, তবুও কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী এলাকাটিতে সক্রিয়। ফিলিপাইন সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এক সময় অপহরণ ও বোমাবাজির জন্য কুখ্যাত আবু সায়্যাফ গোষ্ঠীর বেশিরভাগ সদস্য আত্মসমর্পণ করার পর গোষ্ঠীটি কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে।

মরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্টের শাখা, ব্যাংসমারো ইসলামিক ফ্রিডম ফাইটারস এখনো মাগুইন্দানাও এলাকায় কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে আত্মসমর্পণ ও অভিযানের কারণে এর ক্ষমতা অনেকটাই কমে গেছে।

মরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্ট ২০১৯ সালে একটি শান্তি পরিকল্পনায় সম্মত হয়। এর মাধ্যমে ‘ব্যাংসমারো অটোনোমাস রিজিওন অব মুসলিম মিন্দানাও’ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তারা আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসবাদ ত্যাগ করে।

ফিলিপাইনের কর্তৃপক্ষের মতে, মাউতে গ্রুপ (দাউলাহ ইসলামিয়া নামেও পরিচিত) এখন নিয়ন্ত্রণযোগ্য পর্যায়ে নেমেছে। আইএসের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা চক্র আইএস-ইস্ট এশিয়ার যোদ্ধা প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ জন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগ ফিলিপিনো এবং কিছু বিদেশি। তারা মাঝে মধ্যে মিন্দানাওয়ে হামলা চালিয়েছে।

ডিসেম্বরে মাগুইন্দানাও দেল সুরে দাউলাহ ইসলামিয়ার এক শীর্ষ নেতা ও বোমা বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ উসমান সোলাইমান নিহত হন। ফিলিপাইনের কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, সোলাইমানের সশস্ত্র গোষ্ঠী ২০২২ সালে মিন্দানাওতে বেশ কয়েকটি বাস বোমা হামলাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল।

ফিলিপাইনের সরকার কী করছে
আইএসের পতন ও করোনাকালের পর সন্ত্রাসী হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কিন্তু এরপরও বিচ্ছিন্নভাবে কিছু ঘটনা ঘটছে। ২০১৯ সালে সুলু প্রদেশের জোলো শহরের একটি ক্যাথলিক চার্চে দুটি বোমা হামলা হয়। এতে অন্তত ২০ জন নিহত ও আহত হয় ২০০ জনের বেশি। পরের বছর একটি ক্যাথেড্রালে বোমা হামলায় নিহত হন ১৪ জন। ২০২৩ সালে মিন্দানাও বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা হামলায় নিহত হন চারজন।

ফিলিপাইনের সরকার ২০২০ সাল থেকে সন্ত্রাসবিরোধী আইন কঠোর করেছে। এর আওতায় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে পরিচালিত অভিযানে চরমপন্থী নেতা নিহত, গ্রেপ্তার ও আত্মসমর্পণের ঘটনা ঘটেছে। ফিলিপাইনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এসব অভিযান গোষ্ঠীগুলোর কাঠামো অনেকটাই দুর্বল করেছে। এখনো যেগুলো আছে, সেগুলো বিভক্ত ও তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত নয়।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us

ফলো করুন Orthonity Bangladesh-এর খবর

সম্পাদক
শেখ জাহাঙ্গীর আলম
যোগাযোগ