সোমবার ৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Advertise with us
শিরোনাম
Advertise with us

জব্দ সম্পদ দ্রুত সরকারি খাতায় আনতে হবে

অর্থনীতি ডেস্ক   |   বুধবার, ০১ অক্টোবর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ৩৪৯ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

জব্দ সম্পদ দ্রুত সরকারি খাতায় আনতে হবে

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেছেন, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক শক্তির স্বার্থ যখন এক হয়ে যায়, তখন বড় সংকট তৈরি হয়। ১০ থেকে ১২টি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। এখন শুধু তাদের সম্পদ জব্দ করলে হবে না। জব্দ করা সম্পদ দ্রুততম সময়ে সরকারি খাতায় আনতে হবে। অর্থ পাচারকারী কুলাঙ্গারদের দ্রুত শাস্তি দিতে হবে। গতকাল বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজধানীর বনানীতে পিআরআই কার্যালয়ে অস্ট্রেলিয়ার ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ট্রেডের সহযোগিতায় ‘মান্থলি ম্যাক্রোইকোনমিক ইনসাইটস’ শীর্ষক এ আলোচনা হয়। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. খুরশিদ আলমের সভাপতিত্বে আলোচনায় অতিথি ছিলেন মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি কামরান টি. রহমান এবং ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রাহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআইর প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান।

ড. ফরাসউদ্দিন বলেন, দেশ থেকে বছরে গড়ে ৭০০ কোটি ডলার পাচার হয়েছে। পাচারকারীদের ধরতে গিয়ে এক সময় আমার চাকরি যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই সরকার অনেক ভালো ও সাহসী কাজ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং কাস্টমস থেকে পাচারকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত পাচার অর্থ ফেরত আনার ব্যবস্থা নিতে হবে। সবাইকে আশাবাদী হতে হবে।
সাবেক গভর্নর বলেন, ঢালাও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা খুব বেশি ভালো কাজ নয়। অ্যাকাউন্ট জব্দ চিহ্নিত পাচারকারীদের মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। তাদের স্ত্রী, পুত্র ও কন্যা যদি স্বতন্ত্র হয়, তাদের অ্যাকাউন্ট জব্দ করা ঠিক হবে না। এতে আস্থার ঘাটতি তৈরি হবে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ খুব অল্পের মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। তিনি বলেন, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের একমাত্র কাজ হলো নীতি নির্ধারণ করা। তবে বাংলাদেশ একমাত্র দেশ যেখানে তারা ঋণ দিতে আগ্রহী। এটি আলাদা করতে হবে।

ফরাসউদ্দিন বলেন, ১৯৭২ সালের ৯ বিলিয়নের জিডিপি থেকে এখন চার হাজার ৫৯০ বিলিয়নের জিডিপি হয়েছে। ওই সময়ে মাথাপিছু আয় ছিল ১০০ ডলার। এখন দুই হাজার ৭০০ ডলার। ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে যা বেশি। বাংলাদেশ অগ্রগতি করেছে। চলার পথে বিভিন্ন অসংগতি দেখা দিয়েছে। আওয়ামী লীগের শাসনামলের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, অতি সম্প্রতি বড় ধরনের দুর্নীতি হয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে নিরাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। পথসন্ধান করতে হবে। সাহসের সঙ্গে মুদ্রানীতি করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংককে শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন দেশের কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো। কেন মাত্র ৪০ লাখ লোক কর দেবে, এক কোটি মানুষ কেন দেবে না। প্রতি বছরে ২০ লাখ লোককে করের আওতায় আনতে হবে। ক্ষুদ্র, কুটির ও অতি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের চিহ্নিত করে প্রশিক্ষণ এবং অতি অল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। এটি করতে পারলে কর্মসংস্থান হবে, বৈষম্য কমবে এবং দারিদ্র্য নিসরন করা যাবে।

পিআরআইর প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান বলেন, দেশে অনেক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তৈরি হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে না পারলে, আগামীতে আরও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তৈরি হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা খর্ব হওয়ার কারণেই কিছু গোষ্ঠী অনিয়ম চালিয়ে গেছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে যা ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত বাংলাদেশ ব্যাংককে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া।

কামরান টি. রহমান বলেন, সরকারি-বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত পদক্ষেপ ও দৃঢ় সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে বর্তমান চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হবে। টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বিআইজিইডির ভিজিটিং রিসার্চ ফেলো খন্দকার শাখাওয়াত আলী বলেন, কীভাবে অলিগার্ক তৈরি হয়েছিল, দেখতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে আবারও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তৈরি হবে, আরও লুটপাট হবে।
ডিসিসিআইর সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, আলোচনায় সুশাসনের বিষয়টি বারবার আসছে। যদি সত্যিই সুশাসন থাকত তাহলে ড. ফরাসউদ্দিনের উত্তরসূরিদের পালিয়ে যেতে হতো না।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০ 

ফলো করুন Orthonity Bangladesh-এর খবর

সম্পাদক
শেখ জাহাঙ্গীর আলম
যোগাযোগ