Advertise with us
শিরোনাম
Price Sensitive Information for Bay Leasing & Investment Limited স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য নীতিমালা প্রণয়নে সম্পাদকদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী ইরাক-ইয়েমেন থেকে সৌদিতে হামলা করেছে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠী ব্রাজিলে বিদেশি হস্তক্ষেপ মানবে না চীন, লুলাকে শি মেসি যতদিন ইচ্ছা ততদিন খেলবে: ডি মারিয়া সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত: প্রধানমন্ত্রী ৬০ দেশে নতুন মার্কিন শুল্ক, বাংলাদেশের ওপর ১০% সব দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার ককরোচ জনতা পার্টির ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে প্রিয়াঙ্কা, বিজয়, সোনাক্ষীদের প্রতিক্রিয়া মেসি কি তবে ব্রাজিলেরও? গবেষণায় উঠে এলো নতুন তথ্য
Advertise with us

খামেনিকে হত্যা, তেল সরবরাহ বন্ধে সংঘাতের মঞ্চ বড় হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   |   রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১৩১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

খামেনিকে হত্যা, তেল সরবরাহ বন্ধে সংঘাতের মঞ্চ বড় হচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা, উপসাগরীয় দেশের ঘাঁটিতে ইরানের জবাব এবং আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা- মধ্যপ্রাচ্যকে নতুন করে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তাদের লক্ষ্য হলো ইরানে অনুকূল শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু তাদের এই চাওয়ার বিপরীতে মধ্যপ্রাচ্য বা এর বাইরে ইরানের প্রভাবকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।

খামেনির হত্যাকাণ্ড ইসলামি শাসনব্যবস্থার জন্য বড় আঘাত হলেও, এটি কাটিয়ে ওঠা অসম্ভব কিছু নয়। অতীতেও ইরানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা নিহত হয়েছেন। ২০২০ সালে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিকল্পনাকারী কাসেম সোলেইমানিকে হত্যা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু সে ক্ষতি তেহরান অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই কাটিয়ে ওঠে। স্থলাভিষিক্তের প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খল হওয়ায় ইসলামি শাসনব্যবস্থাও টিকে যায়।

খামেনিও তাঁর পরিণতি আন্দাজ করতে পেরেছিলেন। এজন্য নিজেই উত্তরসূরি বাছাই করে দিয়ে গেছেন। সবচেয়ে বড় কথা হলো, খামেনি একাধারে রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক নেতা ছিলেন। কেবল ইরানের শিয়াদের মধ্যেই নয়, বরং সমগ্র অঞ্চলের অনেক মুসলিমের ওপরও তাঁর প্রভাব আছে। ফলে এই হত্যাকাণ্ড অনেককে প্রতিশোধ নিতে উৎসাহিত করবে। এই চেষ্টাটাই মধ্যপ্রাচ্য কিংবা এর বাইরে সহিংসতার জোয়ার সৃষ্টি করতে পারে।

শাসনব্যবস্থা তৈরিই হয়েছিল টিকে থাকতে
ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সংবিধান অনুযায়ী, ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ বা একটি বিশেষজ্ঞ পরিষদ সর্বোচ্চ নেতা নিয়োগ ও অপসারণের কাজ করে। এই পরিষদ এখন বৈঠক করে নিজেদের মধ্য থেকে অথবা বাইরে থেকে কাউকে অন্তর্বর্তী বা দীর্ঘমেয়াদী নেতা হিসেবে নিয়োগ দেবে। খামেনির সম্ভাব্য উত্তরসূরির মধ্যে আলোচনায় আছেন- বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেন মহসেনি-এজেই, খামেনির চিফ অব স্টাফ আলি আসগর হেজাজি এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি হাসান খোমেনি।

সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, রোববার একটি অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করা হয়েছে। এতে আছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, বিচার বিভাগের প্রধান মহসেনি-এজেই এবং সাংবিধানিক পরিষদের সদস্য আয়াতুল্লাহ আলি রেজা আরাফি। অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস স্থায়ী নেতা নির্বাচন না করা পর্যন্ত এই পরিষদ রাষ্ট্র পরিচালনা করবে।

শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে শাসকরা সম্ভাব্য সব ধরনের ব্যবস্থাই নেবেন। দেশজুড়ে ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং তাদের অধীনস্থ আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’ এর অসংখ্য সদস্য আছে। তারা যেকোনো অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমন এবং শাসনব্যবস্থার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে লড়াই করে।

এসব বাহিনীর সদস্যদের ভাগ্যও শাসনব্যবস্থার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিষয়টি ইরানি সরকারের বিভিন্ন স্তরের প্রশাসক, আমলা এবং সমর্থকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। শিয়া মতাদর্শ এবং কট্টর জাতীয়তাবাদের কারণে তারা এই শাসনব্যবস্থার প্রতি অনুগত থাকতে উদ্বুদ্ধ।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি জনগণকে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু ইরানে আন্দোলনকারীদের মধ্যে অন্তত ৬০ শতাংশের বয়সই ৩০ এর নিচে। প্রশ্ন উঠতে পারে, তারা কি গণঅভ্যুত্থানের চেষ্টা করবে? উত্তর হলো- বিষয়টি বেশ কঠিন। কারণ, রাষ্ট্রের দমনমূলক এবং প্রশাসনিক কাঠামো এখনো শাসনব্যবস্থার প্রতি সংহতি বজায় রেখেছে বলে মনে হচ্ছে। এই কাঠামোর ভেতরে- বিশেষ করে আইআরজিসির মধ্যে বড় ধরনের কোনো ফাটল দেখা না দিলে, বর্তমান শাসকরা দ্রুতই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতা
ইরানের শাসনব্যবস্থাটি বাইরের আগ্রাসনের বিরুদ্ধেও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম হয়েছে। তারা ইতিমধ্যে পারস্য উপসাগর জুড়ে ইসরায়েল এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে স্বল্প ও দূরপাল্লার উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে পাল্টা আঘাত হেনেছে। যদিও অনেকগুলো প্রজেক্টাইল প্রতিহত করা হয়েছে, তবে বেশ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনে গুরুতর ক্ষতি করেছে।

আইআরজিসি এরইমধ্যে হরমুজ প্রণালী বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে। ওমান উপসাগর ও ভারত মহাসাগরকে সংযুক্তকারী এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এবং ২৫ শতাংশ তরলীকৃত গ্যাস পরিবহন করা হয়। রোববার আইআরজিসি অডিও বার্তায় জানিয়েছে, এই প্রণালী দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না। ফলে গুরুত্বপূর্ণ জলপথটিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল থমকে গেছে।

বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ এবং বৃহত্তর অর্থনীতির ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। মোট কথা এই সংঘাত এখন পুরো অঞ্চলকে প্রভাবিত করছে।

দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের সম্ভাবনা
ওয়াশিংটন ও তেল আবিব যদি মনে করে এই সংঘাত আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে গড়াবে না, তাহলে তারা ভুল জগতে বসবাস করছে। কারণ, যুদ্ধ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।

ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতামূলক চুক্তি থাকা দেশগুলোর মধ্যে চীন ও রাশিয়া হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিবসহ আরও অনেকে জরুরিভিত্তিতে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু এটির সম্ভাবনা এখন ক্ষীণ।

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দফার কূটনৈতিক তৎপড়তা সচল থাকার পরও ওয়াশিংটন ও তেল আবিব হামলা করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করতে চেয়েছেন। তিনি মূলত ইসরায়েলের দেখানো পথেই হাঁটছেন। গত আড়াই বছরে নেতানিয়াহুর প্রশাসন হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো ইরানের মিত্রদের শক্তি খর্ব করেছে। প্রভাব বিস্তার করেছে লেবানন ও সিরিয়ায়। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মিলে ট্রাম্পও এখন ইরানের শক্তি ‘ধ্বংস’ করতে চাইছেন।

এই যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেবে তা এখনই বলা কঠিন। তবে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের মঞ্চ তৈরি হয়ে গেছে। এটি এক-দুদিনের বিষয় নয়, সপ্তাহজুড়েও টিকতে পারে। কারণ ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত সন্তুষ্ট হবে না। অন্যদিকে ইরানের শাসকরাও যেকোনো মূল্যে টিকে থাকতে বদ্ধপরিকর।

এই যুদ্ধের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন তার প্রতিদ্বন্দ্বিদের- বিশেষ করে চীনকে বার্তা দিতে চাইছে তারা এখনো বিশ্বের প্রধান শক্তি। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের আধিপত্যকে আরও সুসংহত করতে চাইছেন। পরিতাপের বিষয় হলো, যুদ্ধবাজ দুই মিত্রের ভূরাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য ইরানের সাধারণ জনগণ ভয়াবহ পরিণতি সহ্য করতে যাচ্ছে।

(লেখক: আমিন সাইকাল, অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মধ্যপ্রাচ্য অধ্যয়ন বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক।)

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us

ফলো করুন Orthonity Bangladesh-এর খবর

সম্পাদক
শেখ জাহাঙ্গীর আলম
যোগাযোগ