
খেলাধুলা ডেস্ক | শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | ৯৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ভারতে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ দলকে টি২০ বিশ্বকাপে খেলতে না দেওয়া ছিল সরকারি সিদ্ধান্ত। ২২ জানুয়ারি ক্রিকেটারদের সঙ্গে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। অথচ ১০ ফেব্রুয়ারি উপদেষ্টার দায়িত্ব ছাড়ার দিনে সংবাদ সম্মেলনে উল্টোটাই বলেছিলেন তিনি। বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত সরকার নেয়নি বিসিবি ও ক্রিকেটাররা নিয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন ক্রীড়া উপদেষ্টা। তাঁর ওই বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়ে ভুল স্বীকার করেন আসিফ নজরুল। তিনি স্বীকার করে নেন বিশ্বকাপ না খেলা সরকারেরই সিদ্ধান্ত ছিল। এ নিয়ে বিসিবির কেউ এত দিন মুখ খোলেননি। জাতীয় দলের সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন গতকাল মিডিয়াতে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল মিথ্যাচার করেছেন।
বিশ্বকাপ খেলতে না পারায় জাতীয় দলের একাধিক ক্রিকেটার হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। দুজন ক্রিকেটার প্রচণ্ড মানসিক আঘাত পেয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন সালাউদ্দিন। আসিফ নজরুলের বক্তব্য নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘তিনি আসলে এমন মিথ্যা কথা বলেছেন! তিনি তো একজন শিক্ষক। আমি নিজেও একজন শিক্ষক। শিক্ষকরা মিথ্যা কথা একটু কম বলে। তিনি খাড়ার ওপর এ রকম মিথ্যা কথা বলবেন আমি আসলে ভাবতেও পারছি না। আমি কীভাবে আসলে ছেলেদের সামনে মুখ দেখাব। তিনি একজন শিক্ষক মানুষ, ঢাকা ইউনিভার্সিটির শিক্ষক। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের একজন শিক্ষক এভাবে মিথ্যা বলবে, আমরা আসলে এটা মানতে পারতেছি না।’
নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে অন্তর্বর্তী সরকার ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নেয়। বিসিবিকে কোনো রকম সুযোগ না দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাসে আসিফ নজরুল লিখেছিলেন, বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপ খেলবে না। এরপর বিসিবি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করলেও লাভ হয়নি। বাংলাদেশের দাবিকে খারিজ করে দিয়ে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে বলা হয়। বিসিবি তাতে রাজি না হওয়ায় বিকল্প হিসেবে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ দেয় আইসিসি। বিশ্বকাপ খেলা বঞ্চিত হয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন ক্রিকেটাররা।
সালাউদ্দিনের ভাষায়, ‘আমি তো জানি আমার দুইটা খেলোয়াড় কোমাতে (ট্রমা) চলে গিয়েছিল। পাঁচ দিন ধরে কোথায় যেন হারায় গিয়েছিল তারা। আমরা তাদের (অদম্য কাপ) টুর্নামেন্টে মাঠে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি ওইটাই বেশি। এটা সবচেয়ে বড় সাফল্য আমার জীবনে। একটা দলকে আপনি এক সেকেন্ডে নষ্ট করে দিয়েছেন।’
বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেলে বাংলাদেশ ভালো করত বলে দাবি সালাউদ্দিনের, ‘কলকাতা শ্রীলঙ্কাতে খেলা দেখার পরে মনে হলো যে উইকেটটা হয়তো আমাদের জন্য অনেক দারুণ হতো। আমরা হয়তো এই উইকেটে ভালো করতে পারতাম। খেলা যে রকম মানের হচ্ছে সে অনুযায়ী আমার কাছে মনে হচ্ছে এখানে আমাদের ভালো করার অনেক সুযোগ ছিল।’ তবে এখন আর আফসোস করতে চান না জাতীয় দলের এই সহকারী কোচ। সালাউদ্দিনের বক্তব্য ভাইরাল হওয়ার পর ক্রিকেটার সাইফ হাসানও স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
