বুধবার ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Advertise with us
Advertise with us

মিয়ানমারে নতুন গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান, মজুত ১০৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   |   মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

মিয়ানমারে নতুন গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান, মজুত ১০৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট

মিয়ানমারের সামরিক সরকার (জান্তা) চারটি নতুন অফশোর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের দাবি করেছে। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয়ের (এমওআই) তথ্যমতে, নতুন আবিষ্কৃত ক্ষেত্রগুলোতে মোট প্রায় ১০৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত রয়েছে।

সোমবার জান্তা সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়টির অবস্থান তানিনথারিই গভীর সমুদ্রাঞ্চলে। এতে প্রায় ৯৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া আইয়ারওয়াডি অঞ্চলে আবিষ্কৃত আরেকটি গ্যাসক্ষেত্রে প্রায় ১৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার।

যদিও সরকার নতুন ক্ষেত্রগুলোর নাম প্রকাশ করেনি, তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, তানিনথারিই অঞ্চলের ব্লক এম-১৫ প্রকল্প এই ঘোষণার অন্তর্ভুক্ত। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বিবিসি বার্মিজ এক প্রতিবেদনে জানায়, আন্দামান সাগরে কাদান দ্বীপের কাছে অবস্থিত ব্লক এম-১৫-এ প্রায় ৯৪ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গ্যাসভান্ডারে পরিণত হতে পারে।

প্রায় ১৩ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনের ওই ব্লকের জন্য ২০১৫ সালে সিঙ্গাপুরভিত্তিক কানাডিয়ান ফরসাইট গ্রুপ (সিএফজি) দরপত্রে জয়ী হয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত মিয়ানমার অয়েল অ্যান্ড গ্যাস এন্টারপ্রাইজের (এমওজিই) সঙ্গে উৎপাদন-বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর করে।

বিবিসি বার্মিজের বরাত দিয়ে জানা যায়, সিএফজির ২০১৭ সালের এক অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মিয়ানমারের মোট বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ সমপরিমাণ রাজস্ব আসতে পারে। তৎকালীন বাজারমূল্য অনুযায়ী ব্লকটির গ্যাসের সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ২৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে গত বছর এমওজিই এবং থাইল্যান্ডভিত্তিক গালফ পেট্রোলিয়াম মিয়ানমার (জিপিএম) ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর প্রথম অফশোর গ্যাস উৎপাদন-বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর করে। মত্তামা উপসাগরের মিন ইয়ে থু (ব্লক এম-১০) প্রকল্পের জন্য ২০২৫ সালের ৩০ মে নেপিদোতে এ চুক্তি হয়।

জান্তা সরকারের দাবি, এসব গ্যাস প্রকল্প বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার কারখানা ও শিল্প খাতের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।

তবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র এমওজিইর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি সামরিক সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার সবচেয়ে বড় উৎস এবং এর অর্থ মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে।

অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠন ‘জাস্টিস ফর মিয়ানমার’ দাবি করেছে, জিপিএমের মূল প্রতিষ্ঠান নর্দার্ন গালফ পেট্রোলিয়াম বারমুডা, ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ ও সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত একাধিক শেল কোম্পানির মাধ্যমে সামরিক সরকারের কাছে অর্থ স্থানান্তর করে থাকতে পারে।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর নিরাপত্তা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির কারণে বিশ্বের বেশ কয়েকটি বড় জ্বালানি কোম্পানি মিয়ানমার থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়। এর মধ্যে ছিল ফ্রান্সের টোটালএনার্জিস, অস্ট্রেলিয়ার উডসাইড এনার্জি এবং যুক্তরাষ্ট্রের শেভরন। টোটালএনার্জিস ও শেভরন দেশটির বৃহত্তম গ্যাস প্রকল্প ইয়াদানা থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে সরে যায়।

জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ ও বৈদেশিক মুদ্রার সংকট মোকাবিলায় সামরিক সরকার নতুন গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উন্নয়নকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। তবে প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা এসব সম্ভাবনাকে কতটা বাস্তবে রূপ দিতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
Advertise with us

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০ 

ফলো করুন Orthonity Bangladesh-এর খবর

সম্পাদক
শেখ জাহাঙ্গীর আলম
যোগাযোগ