বৃহস্পতিবার ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Advertise with us

যুক্তরাজ্যে প্রথমবার সোনালি ধানের হাসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   |   মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ৯৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

যুক্তরাজ্যে প্রথমবার সোনালি ধানের হাসি

দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে পাকা ধানের সোনালি ক্ষেত। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর চিরচেনা একটি চিত্র। সে তুলনায় ইউরোপের দেশগুলোতে ধানের চেয়ে গম ও ভুট্টার চাষই বেশি হয়। তবে এবার গ্রীষ্মে রেকর্ড গরমের পর ব্রিটেনে প্রথমবারের মতো ধান চাষ শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় কেমব্রিজশায়ার অঞ্চলের এলির এলাকার উত্তরে কয়েক মাইল দূরে ব্রিটেনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এখন চলছে ফসল গোলায় তোলার প্রস্তুতি।

গত রোববার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও ফিলিপাইন থেকে আনা ৯টি ধানের জাত গত বসন্তে রোপণ করা হয়েছিল। চলতি বছর রেকর্ড উষ্ণ গ্রীষ্মের মধ্যেই সেই ধান বেড়ে উঠেছে। দেশটির সেন্টার ফর ইকোলজি অ্যান্ড হাইড্রোলজির গবেষক নাদিন মিটশুনাস গবেষণামূলকভাবে ধানের এই আবাদ করেছেন। নাদিন জানান, মানুষকে যখন বলেন যে তিনি যুক্তরাজ্যে ধান চাষ করছেন, তখন তারা মনে করেন ঠাট্টা করছেন। কারণ, এর আগে কেউ এটি চেষ্টা করেনি। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমাদের এমন ফসল আছে, যা ১০ বছর আগেও আমরা বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর বলে মনে করিনি। আগামী ১০ বছরের মধ্যে ধান আমাদের জন্য একেবারে উপযুক্ত ফসল হতে পারে।

সেন্টার ফর ইকোলজি অ্যান্ড হাইড্রোলজির অধ্যাপক রিচার্ড পাইওয়েল জানান, ব্রিটেন বর্তমানে ধানের চাষের সীমার একেবারে প্রান্তে রয়েছে। যদিও কৃষকদের জন্য এখনই বাণিজ্যিকভাবে ধানের চাষ ঝুঁকির কারণ হতে পারে। গবেষণা অনুসারে, জলবায়ু যদি উষ্ণ হতে থাকে, তবে ইংল্যান্ডে বড় আকারে ধান সফলভাবে চাষ করা যেতে পারে।

জানা গেছে, পরীক্ষামূলক ধানের ক্ষেতগুলো ফেনস এলাকার মাঝখানে অবস্থিত, যেখানে বর্তমানে এক বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি মূল্যের সবজি উৎপাদিত হয়। এখানকার সমৃদ্ধ পিটযুক্ত মাটি ১৭ শতকে নিষ্কাশন শুরু না হওয়া পর্যন্ত পানির নিচে ছিল। ধীরে ধীরে শুকিয়ে যাওয়ার কারণে কার্বন ডাইঅক্সাইড বায়ুমণ্ডলে নিঃসৃত হয় এবং এই জমিতে পানি দিলে প্রক্রিয়াটি উল্টে যাবে (অর্থাৎ কার্বন নিঃসরণ কম হবে)।

বিগত শতাব্দীতে ব্রিটেনে জলাভূমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে এর প্রায় ৯০ শতাংশই বিলুপ্ত। তবে পরিবেশ সংরক্ষণবাদীরা যুক্তরাজ্যজুড়ে আরও ধানক্ষেতের সম্ভাবনা নিয়ে উৎসাহিত।
ব্রিটেনজুড়ে একসময় প্রচুর কারলিউ পাখি ছিল, যা বর্তমানে প্রায় দেখাই যায় না। এই পাখি সংরক্ষণবাদী মেরি কলওয়েল বলেন, কারলিউ পাখি প্রজনন ঋতুর বাইরে এবং পরিযায়ী যাত্রায় বিরতি হিসেবে ধানের ক্ষেত ব্যবহার করে। এদের উপস্থিতি ভূমধ্যসাগরীয় ধান চাষের স্থানগুলোতে রেকর্ড করা হয়েছে। বিশেষত যেখানে অগভীর পানি ও নরম মাটি থাকে, সেখানে এই পাখি খাওয়ার জন্য ছোট ছোট অমেরুদণ্ডী প্রাণী খুঁজে পায়।

একসময় গম চাষ করা পূর্ব অ্যাংলিয়ার কৃষক এবং সংরক্ষণবাদী গ্রাহাম ডেনি জানান, ব্রিটেনে চাষাবাদের বর্তমান অবস্থার কারণে তিনি এ মুহূর্তে গমের আবাদ থেকে প্রায় কিছুই উপার্জন করতে পারছেন না। তবে তিনি ইংল্যান্ডে ধানের মতো অ-স্থানীয় ফসলের আবাদ নিয়েও সন্দিহান। ডেনি বলেন, কৃষকরা এ মুহূর্তে প্রায় সবকিছুই দেখছেন। কিন্তু ১০ হাজার হাঁস যখন এই ধানক্ষেতে নামবে, তখন আপনি কী করবেন? এই চিত্র হয়তো ছবি তোলার জন্য দারুণ; কিন্তু তা কৃষকের জন্য কতখানি ভালো হবে, সেটি ভাবার বিষয়।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক
শেখ জাহাঙ্গীর আলম
যোগাযোগ