বৃহস্পতিবার ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Advertise with us

হরমুজ দিয়ে তেল আমদানি ছাড়াই যেভাবে টিকবে চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   |   বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১৭ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

হরমুজ দিয়ে তেল আমদানি ছাড়াই যেভাবে টিকবে চীন

হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি তেল আমদানি করে, চীন তাদের মধ্যে অন্যতম। কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ হয়ে গেলেও দেশটিতে জ্বালানি সংকট দেখা দেবে না। কারণ, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে দেশটি।

রয়টার্স লিখেছে, চীন পারস্য উপসাগর থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করে। ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া মিলে যত তেল নেয়, চীন একাই হরমুজ ব্যবহার করে তার চেয়ে বেশি তেল নেয়। অথচ বিশ্বের অন্যান্য দেশ যখন হরমুজ বন্ধ থাকায় তেল সংকটের ভুগছে, তখন চীন এ নিয়ে কোনো মাথা ঘামাচ্ছে না।

এশিয়ার দেশগুলো জ্বালানি সংকট কাটাতে তাদের নাগরিকদের নানা সাশ্রয়ী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছে। বিপরীতে চীন বলছে, তাদের রয়েছে সংকট মোকাবিলার নিজস্ব পন্থা। গ্লোবাল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বেইজিং সরবরাহ সংরক্ষণের জন্য অনানুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে। বছরের পর বছর ধরে গৃহীত নীতিগত পদক্ষেপের কারণে জ্বালানি তেলে তারা সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ করেছে।

চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ির বহর প্রায় বিশ্বের বাকি দেশগুলোর সম্মিলিত, বিশাল ও ক্রমবর্ধমান তেলের মজুতের সমান কাজ করে। তাছাড়া চীনের রয়েছে তেল ও গ্যাসের বৈচিত্র্যময় সরবরাহ এবং একটি বিদ্যুৎ গ্রিড। যা দেশীয় কয়লা ও নবায়নযোগ্য শক্তির কল্যাণে আমদানির ওপর নির্ভরশীল নয়।

ফিনল্যান্ডের ‘সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা লরি মিল্লিভিরতা বলেন, বর্তমানের পরিস্থিতি নিয়ে চীনা পরিকল্পনাবিদরা কয়েক দশক আগে থেকেই পরিকল্পিতভাবে কাজ করছেন। যা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রচেষ্টাকেই প্রমাণ করে।

বৈদ্যুতিক গাড়ির উত্থান ও সুরক্ষিত বিদ্যুৎ গ্রিড
২০২০ সালের শেষের দিকে বেইজিং ২০২৫ সালের মধ্যে নতুন বিক্রির ২০ শতাংশ বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। গত বছর পর্যন্ত সব নতুন গাড়ির অর্ধেকেরও বেশি বিক্রি হয়ে গেছে। বৈদ্যুতিক গাড়ির এই অপ্রত্যাশিত উত্থানের অর্থ হলো, কয়েক দশকে চীনের জ্বালানি ব্যবহার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। মাত্র কয়েক বছর আগেও যত জ্বালানি খরচ হতো, বর্তমানে দেশটি এখন অনেক কম তেল পোড়াচ্ছে ও আমদানি করছে।

সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের হিসাব অনুযায়ী, গত বছর বৈদ্যুতিক গাড়ির কারণে যে পরিমাণ তেল বাঁচানো গেছে, সৌদি আরব থেকে তেল আমদানির পরিমাণের সমান।

তেল আমদানির বহুমুখী উৎস
চীন প্রচুর জ্বালানি তেল আমদানি করে। কিন্তু এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর মতো চীন কোনো একক সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরশীল নয়। যেমন জাপানের কথাই ধরা যাক। দেশটি সাধারণত প্রায় ৮০ শতাংশ তেল সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে কেনে। আর চীন আটটি দেশ থেকে তেল কেনে। যার মধ্যে রাশিয়া, ভেনেজুয়েলা ও ইরান থেকে বিপুল পরিমাণে ছাড়কৃত তেলও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এ দেশগুলোতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাছাড়া চীনের মোট তেল আমদানির ২০ শতাংশেরও কম কোনো একটি উৎস থেকে আসে। কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভও সচল রেখেছে বেইজিং। এই রিজার্ভ ঠিক কতটা বড়, তা কেউ জানে না। কিছু হিসাব অনুযায়ী, বাণিজ্যিক শোধনাগারগুলোর কাছে থাকা মজুতসহ চীনের কাছে মজুত থাকা তেল দিয়ে সম্ভবত সাত মাস ধরে হরমুজ প্রণালি হয়ে আমদানির ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।

অন্যদিকে, জ্বালানি তেলে চীনের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ছে। দেশটি গত বছর দৈনিক ৪৩ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করেছে, যা একটি নতুন রেকর্ড এবং মোট তেল আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশের সমান। রাইস্ট্যাড এনার্জির তেল ও গ্যাস গবেষণা বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট চেন লিন বলেন, তেল আমদানি করা লাগলেও চীনে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা কম।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us
সম্পাদক
শেখ জাহাঙ্গীর আলম
যোগাযোগ