
অর্থনীতি ডেস্ক | মঙ্গলবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | ১৮৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

পাল্টা শুল্ক নিয়ে ওয়াশিংটন ও ঢাকার মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা দিয়ে উৎপাদিত পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধাসহ আরও কিছু সুবিধা চেয়েছে বাংলাদেশ। গত ৭ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর পাল্টা শুল্কের হার কমিয়ে ২০ শতাংশ কার্যকর করলেও দেশটির সঙ্গে এখনও কোনো বাণিজ্য চুক্তি হয়নি। আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই বাংলাদেশ এ সংক্রান্ত চুক্তি করতে চায় বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান গতকাল সোমবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইতোমধ্যে কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশ পাল্টা শুল্ক নিয়ে চুক্তি করেছে। বাংলাদেশও চুক্তির খসড়ার সর্বশেষ অংশ পাঠিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি অনুচ্ছেদে কিছু আপত্তি রয়েছে। এটি তারা চূড়ান্ত করলে চুক্তির দিনক্ষণ ঠিক হবে। আশা করা যায়, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ সংক্রান্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হয়ে যাবে।
ইতোমধ্যে ভারত ও চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা পাল্টা শুল্ক কমানোর আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশেও শুল্ক কমানোর আলোচনা অব্যাহত রাখবে বলে জানানো হয়েছিল। এ বিষয়টিতে অগ্রগতি জানতে চাইলে সচিব বলেন, সার্বিকভাবে শুল্ক কমানোর অনুরোধ করা হয়েছে। তবে আগের পাল্টা শুল্ক না থাকা সত্ত্বেও দেশটিতে সব পণ্যে রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব হয়নি। তাই যৌক্তিকভাবে দেশটির উপকরণ ব্যবহার করে যেসব পণ্য রপ্তানি করা হবে সেসব ক্ষেত্রে শুল্কছাড় সুবিধা চাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দেশটি থেকে আমদানি করা সুতা দিয়ে উৎপাদিত পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা চাওয়া হয়েছে। একইভাবে এলডিসি (স্বল্পোন্নত) হিসেবে অন্যান্য দেশ বাংলাদেশকে যে ধরনের সুবিধা দেয়, যুক্তরাষ্ট্রেও একই সুবিধা চাওয়া হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রও ইতিবাচক।
বাড়তি বাণিজ্য ঘাটতির কথা বলে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর প্রথমে ৩৭ শতাংশ এবং পরে ৩৫ শতাংশ ‘পাল্টা শুল্ক’ আরোপের ঘোষণা দিয়ে আলোচনার সুযোগ রেখেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনে তৃতীয় দফার আলোচনা শেষে গত ৩১ জুলাই পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। তবে এ জন্য বাংলাদেশকে বেশ কিছু ছাড় দিতে হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে যেসব ছাড় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তাতে পাল্টা শুল্ক আরও কম হবে– এমনটি আশা করেছিল সরকার।
বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৬০০ কোটি ডলার। এটি কমাতে আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেড় বিলিয়ন বা ১৫০ কোটি ডলার আমদানি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ। আগামী কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কিনবে সরকার। এতে স্থানীয় মুদ্রায় খরচ হতে পারে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া কিছুটা বাড়তি দামে পাঁচ বছর মেয়াদে প্রতিবছর সাত লাখ টন করে গম আমদানি করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক পণ্য, বেসামরিক উড়োজাহাজ যন্ত্রাংশ আমদানি বাড়াবে বাংলাদেশ এবং জ্বালানি তেল ও ভোজ্যতেল, গম ও তুলা আমদানি বাড়ানো এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন্য অনাপত্তিপত্রও সহজ করা হবে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য আমদানি বাড়াতে শুল্ক ও অশুল্ক ছাড় দেওয়াসহ আরও বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
