
জাতীয় ডেস্ক | মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেভাবে শিক্ষক নিয়োগ হওয়ার কথা ছিল, সেভাবে হয়নি। আমরা যতটা শুনেছি এবং দেখেছি, রাজনৈতিক পক্ষপাতকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। ফলে আমরা যদি শিক্ষক নিয়োগে মেধা দেখে নিয়োগ দিতে পারি, তাহলে পরিবর্তন করা সম্ভব।’
আজ মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। এ সময় কোনো বক্তব্য না দিয়ে ঘণ্টাব্যাপী তিনি শিক্ষার্থীদের উন্মুক্ত নানা প্রশ্নের জবাব দেন। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন, লাইব্রেরি, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করেন।
শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের দেখে ভালো লাগছে, মনে হচ্ছে ৩৫ বছর আগে ফিরে গিয়েছি। আমি জানতে চাই, কেমন বাংলাদেশ আপনারা দেখতে চান। আপনারা দেশের ভবিষ্যৎ। আমি বেশি বলার চাইতে আপনাদের থেকে বেশি শুনতে চাই।’
হলে সিট সমস্যা এবং চাকরিতে স্বজনপ্রীতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কমবেশি সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সমস্যাগুলো আছে। ২০০৮ সালের পর থেকে বাংলাদেশে অনেক বড় বড় প্রকল্প হয়েছে। দেশের জন্য প্রকল্পের প্রয়োজন আছে। কিন্তু সবচেয়ে দুঃখজনক হলো, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে খরচ পড়ছে ৯৬ হাজার কোটি টাকা। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে কাছাকাছি পাওয়ার স্টেশন হয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকায়, অর্থাৎ তিন গুণ বেশি খরচ হচ্ছে। প্রত্যেক মানুষের উপর এই টাকার বোঝা এসে পড়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সেখানে বালিশ কেনা হয়েছে ৮০ হাজার টাকায়, যেটার দাম দেড়-দুই হাজার টাকার বেশি নিশ্চয়ই হবে না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একটি শ্বেতপত্র হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে, বছরে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে পাচার হয়েছে। এই টাকা যদি দেশে থাকতো, তাহলে আমরা হলগুলোর এই সঙ্কট সমাধান করতে পারতাম।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শুরু করে দিব, কিন্তু মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে। আমাদের ছোট দেশ গরিব দেশ, আমাদের রিসোর্স যে খুব বেশি তা নয়। আমরা পরিবর্তন নিয়ে আসলে আমরা অনেক কিছু করতে পারব।’
তারেক রহমান বলেন, ‘অনেকেই দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্সের কথা বলেন। আমার কাছে কথাটা অবান্তর মনে হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমরা যতই বলি জিরো টলারেন্স, এটা অবাস্তব। কিন্তু আমরা যেটা চেষ্টা করছি, যতটুকু লাগাম টেনে ধরা যায়। এত বছরের বিষয় আমরা দুই মাস, ছয় মাস, এক বছর, দুই বছরে পারব না। এটা একটা অভ্যাসের বিষয়।’
কর্মসংস্থান এবং একাডেমিয়া-ইন্ড্রাস্ট্রি কোলাবোরেশন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নত বিশ্বে ইউনিভার্সিটি ইন্ডাস্ট্রি কোলাবোরেশন রয়েছে। আমরা ইন্ডাস্ট্রির সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে চাচ্ছি। ফলে শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় একটি চাকরি পেয়ে যাচ্ছেন। আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। শুধু বই পড়া নয়, প্রায়োগিক জ্ঞান আমরা তৈরি করতে পারি।’
প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে প্রশ্নটির জবাবে উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের প্রায়োগিক জ্ঞান বৃদ্ধিতে স্নাতকোত্তরে চতুর্থ বর্ষের একটি সেমেস্টারে ইন্ডাস্ট্রিতে ইন্টার্নশিপ বাস্তবায়ন করতে চাই। ইন্ডাস্ট্রি সংগঠনগুলোর সাথে আমরা কথা বলছি, প্রকৃতভাবে যেন ইন্টার্নশিপ শুরু করা যায়। যেসব ইন্ডাস্ট্রি ইন্টার্নশিপ দেবে তাদেরকে পলিসিগত সুবিধা আমরা দেব।’
তৃতীয় ভাষা শিক্ষার কার্যক্রম সরকারের বর্তমান মেয়াদেই দেখা যাবে মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আমাদের আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মত সময় লাগবে। কারণ এত শিক্ষক পাওয়া খুব কঠিন। এই শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদের বিদেশী ভাষা শেখাতে চাচ্ছি।’
তারেক রহমান বলেন, ‘বাচ্চাদের আমরা যে ভাষা শেখাব, তা ভিডিও ফরম্যাটে নিতে চাচ্ছি। কারণ এত শিক্ষক ফিজিক্যালি আমরা দিতে পারব না। সেজন্য আমরা কিছু মানুষকে শেখাব এবং ক্লাসরুম বা স্কুলগুলোতে আমরা ভিডিও দেখাব। ফলে ঢাকা থেকে বসে বা রাজশাহী থেকে বসে রাজশাহী বিভাগের জেলাগুলোতে শিখতে পারবে। সেক্ষেত্রে চাকরির সুযোগ তৈরি হবে।’
গবেষণা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ গবেষণা ও মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগে ঘাটতি। মেধা ও একাডেমিক যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষক নিয়োগ এবং গবেষণা সংস্কৃতি জোরদারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।’ একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের গবেষণা ও উদ্ভাবনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
শিক্ষার্থীদের ভাষা শিক্ষা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘সরকার স্কুল পর্যায় থেকেই তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে। ইংরেজির পাশাপাশি চীনা, জাপানি, ফরাসি, জার্মানসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ভাষা শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যৎ কর্মবাজারে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে ভাষা শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
অনুষ্ঠানের সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, আরো উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ও সাদা দলের আহ্বায়ক ড. মোর্শেদ হাসান খান প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ্ আল মামুন।
