
অর্থনীতি ডেস্ক | রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | ১৭০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

নন-বাসমতি চাল রপ্তানিতে নতুন শর্ত আরোপ করেছে ভারত। শর্তমতে এখন থেকে বাসমতি ছাড়া অন্যান্য চাল রপ্তানি করতে হলে অবশ্যই কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রপ্তানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে (এপিইডিএ) নিবন্ধন নিতে হবে। গত বুধবার ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বৈদেশিক বাণিজ্য দপ্তর (ডিজিএফটি) এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করে।
এতে বলা হয়, নন-বাসমতি চালের রপ্তানিনীতিতে অতিরিক্ত শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। এখন থেকে নন-বাসমতি চাল কেবল এপিডায় নিবন্ধনের পরই রপ্তানি করা যাবে।
ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ চাল রপ্তানিকারক দেশ। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি নন-বাসমতি বা সাধারণ চাল আমদানি করে থাকে। বাংলাদেশ সরকার গত অর্থবছরে ছয় লাখ টন চাল আমদানির অনুমোদন দিয়েছিল। আমদানি করা চালের বেশির ভাগই এসেছিল ভারত থেকে। দেশটির এই শর্ত বাংলাদেশের আমদানিতে কতটা প্রভাব ফেলবে তা এখনই অনুমান করা যাচ্ছে না। কারণ ভারত ছাড়াও ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশ চাল আমদানি করে।
এ ব্যাপারে আমদানিকারকদের কেউ কেউ বলছেন, নতুন এই শর্ত নির্দিষ্ট কোনো দেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে দেওয়া হয়নি। ফলে এই শর্ত বাংলাদেশের আমদানির ক্ষেত্রে বড় ধরনের কোনো প্রভাব ফেলার আশঙ্কা কম। আবার কারও মতে, এটি আমদানির ক্ষেত্রে এক ধরনের অশুল্ক বাধা, যা ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য কিছুটা ঝামেলা হতে পারে। কারণ, রপ্তানির অনুমতির জন্য তাদের ওই দপ্তরে যেতে হবে। এতে হয়তো রপ্তানি প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগতে পারে। তাদের মতে, ভারতে এখন প্রচুর পরিমাণে চাল মজুত রয়েছে। এই চাল তাদের রপ্তানি করতে হবে।
বাংলাদেশ রাইস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি কাওসার আলম বলেন, কিছুদিন পর পর বোঝা যাবে যে, প্রভাব আসলে পড়বে কী পড়বে না। তবে এই মুহূর্তে নতুন এই শর্ত চাল আমদানির ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে না। এমনকি দামের ক্ষেত্রেও কোনো সমস্যা হবে বলে মনে করি না।
এদিকে আগামী মাসগুলোতে চালের দাম কমে আসবে বলে মনে করছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। জিইডির ইকোনমিক আপডেট অ্যান্ড আউটলুক-সেপ্টেম্বর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বলা হয়, ২০২৫ সালে মোট ১০ লাখ ৭০ হাজার টন বোরো সংগ্রহ করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারের খাদ্যশস্য সংগ্রহের পরিমাণ ১০ লাখ ৮২ হাজার টনে পৌঁছেছে। গত মাসে সরকার চালের বাজার স্থিতিশীল করার অংশ হিসেবে শুল্কমুক্তভাবে পাঁচ লাখ টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়। ১২ আগস্ট থেকে বেসরকারি আমদানিকারকরা সরকারের অনুমোদন পাওয়ার পরপরই আমদানি শুরু করেন। বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে চার মাস পর পুনরায় চাল আমদানি শুরু হয়।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য বলছে, বর্তমানে খাদ্যশস্যের সরকারি মজুতের পরিমাণ ১৭ লাখ ৩৪ হাজার ৯৭ টন। এর মধ্যে ১৬ লাখ ৫২ হাজার ৭০২ টন চাল, ১৩ হাজার ৫০ টন ধান ও ৭২ হাজার ৯১৩ টন গম মজুত রয়েছে।
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের হিসেবে, দেশে বছরে চালের চাহিদা রয়েছে ৩ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৩ কোটি ৮০ লাখ টন। বন্যা কিংবা প্রাকৃতিক নানা কারণে চালের উৎপাদন কম হলে আমদানির মাধ্যমে চাহিদা মেটানো হয়।
