
খেলাধুলা ডেস্ক | মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | ৬১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর মাত্র এক মাস। অথচ মাঠের লড়াই শুরুর আগেই ভারত ও চীনে শুরু হয়েছে সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে ‘অচলাবস্থা’। এতে এই দুই দেশের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী টুর্নামেন্টটি সরাসরি দেখতে পারবেন কি না, সেটা নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের বিশ্বকাপ দেখাতে ফিফাকে প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছিল রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ এবং দ্য ওয়াল্ট ডিজনি কোম্পানি। তবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই অঙ্ককে যথেষ্ট মনে না করায় প্রস্তাবটি গ্রহণ করেনি। অন্যদিকে, সনি গ্রুপ করপোরেশন আলোচনায় অংশ নিলেও শেষ পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দেয়নি। ফলে ক্রিকেটের দেশে ফুটবলের মহোৎসবের প্রচার নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না।
চীনেও প্রায় একই চিত্র। ২০১৮ এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপের আগে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) অনেক আগেভাগেই সম্প্রচার স্বত্ব নিশ্চিত করে প্রচারণা শুরু করেছিল। কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। আসর শুরুর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েও দেশটির কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ফিফার চুক্তি সম্পন্ন হয়নি।
ফুটবল বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক সাফল্যে এই দুই দেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফিফার তথ্যমতে, ২০২২ বিশ্বকাপে বৈশ্বিক টিভি দর্শকের ১৭.৭% ছিল চীনের এবং ২.৯% ছিল ভারতের। এছাড়া ডিজিটাল স্ট্রিমিংয়ে এই দুই দেশের সম্মিলিত অংশ ছিল ২২.৬%। ফিফা এরই মধ্যে বিশ্বের ১৭৫টিরও বেশি অঞ্চলে চুক্তি সম্পন্ন করলেও ভারত ও চীনের বিষয়টি এখনো ঝুলে আছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠেয় এবারের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারতীয় সময় অনুযায়ী গভীর রাতে হওয়ায় দর্শকসংখ্যা কমতে পারে। ভারতে ক্রিকেটের তুলনায় ফুটবলের বাণিজ্যিক আকর্ষণ তুলনামূলকভাবে কম। আগামী ১১ জুন শুরু হবে বিশ্বকাপ। হাতে সময় কম থাকায় দ্রুত চুক্তি চূড়ান্ত, সম্প্রচার অবকাঠামো প্রস্তুত এবং বিজ্ঞাপন বাজার সক্রিয় করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে সংশ্লিষ্টদের জন্য।
তবে বিজ্ঞাপন সংস্থা ডেন্টসু ইন্ডিয়ার স্পোর্টস পার্টনার রোহিত পোতফোদে এখনই হাল ছাড়ছেন না। তার মতে, ‘হাতে সময় খুব কম, তবে একে অচলাবস্থা বলা যাবে না। বরং দাবার শেষ পর্যায়ের মতো আর কয়েকটি চাল বাকি মাত্র।’
