
অর্থনীতি ডেস্ক | শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৮২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

আমের পর এবার চীনের বাজারে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল। বাংলাদেশ থেকে তাজা কাঁঠাল রপ্তানির লক্ষ্যে চীনের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস অব চায়নার (জিএসিসি) পাঠানো খসড়া প্রটোকল পর্যালোচনার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। ২০২৪ সালে স্বাক্ষরিত আম রপ্তানি প্রটোকলের আদলে তৈরি এই নতুন চুক্তিনামা দ্রুত কার্যকর করার লক্ষ্যে সম্প্রতি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষ হলে খুব শিগগিরই কাঁঠাল রপ্তানি হবে, যা দেশের কৃষিপণ্য রপ্তানিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মাহমুদুল রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ পর্যালোচনা সভায় খসড়া প্রটোকলের ওপর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মতামত পর্যালোচনা করা হয়। সভায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, চীন থেকে আসা খসড়া প্রটোকল ইংরেজি ভাষায় চূড়ান্ত করে পুনরায় কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এরপর এটি আইন ও সংসদবিষয়ক বিভাগে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। দুই দেশের চূড়ান্ত সম্মতি মিললে চলতি মৌসুমেই চীনের বাজারে কাঁঠাল পাঠানোর পথ উন্মোচিত হতে পারে।
খসড়া প্রটোকল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আম রপ্তানির মতোই কাঁঠাল রপ্তানির ক্ষেত্রেও বিভিন্ন শর্ত আরোপ করেছে চীন। বিশেষ করে রপ্তানিযোগ্য সব কাঁঠাল বাগান এবং প্যাকিং হাউসকে অবশ্যই কৃষি মন্ত্রণালয় এবং চীনের কাস্টমস কর্তৃক যৌথভাবে নিবন্ধিত হতে হবে। বাগানগুলোতে ‘গুড এগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিস’ এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষভাবে ব্যাকট্রোসেরা ক্যারাম্বোলা ও বি. আমব্রোসা নামক পোকার আক্রমণ থেকে ফলকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখার শর্ত দেওয়া হয়েছে। নিবন্ধিত প্যাকিং হাউসগুলোতে ফল বাছাই, ধোয়া ও প্যাকিংয়ের সময় কারিগরি মান কঠোরভাবে বজায় রাখতে হবে।
প্রটোকলে বলা হয়েছে প্রতিটি বাক্সে ইংরেজি বা চীনা ভাষায় ফলের নাম, রপ্তানিকারকের দেশ, বাগানের নাম ও নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ থাকতে হবে। এ ছাড়া কনটেইনারে লোড করার সময় ফলগুলো পরিষ্কার থাকতে হবে। এরপর তা সরকারিভাবে সিল করতে হবে এবং চীনের বন্দরে না পৌঁছানো পর্যন্ত খোলা যাবে না। বাগানগুলোতে মিথাইল ইউজেনল ব্যবহার করে পোকা দমন এবং আন্তর্জাতিক ফাইটোস্যানিটারি মান নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আমের প্রটোকল বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কাঁঠাল রপ্তানির প্রক্রিয়াটি দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট অন্য সংস্থাগুলোর লিখিত মতামত পাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে পরবর্তী উচ্চ পর্যায়ের সভা হবে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হলে অতি দ্রুত দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।
