
বিনোদন ডেস্ক | সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৯৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

পিংকী ছেত্রী। নেপালি বংশোদ্ভূত কণ্ঠশিল্পী, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও উদ্যোক্তা। সম্প্রতি নিজ ইউটিউব চ্যানেলে একক গান ‘ভাব তরঙ্গ’ প্রকাশ করে শ্রোতাদের প্রশংসা কুড়াচ্ছেন তিনি। এ ছাড়া বরাবরই আলোচনায় ছিলেন জনসচেতনতামূলক ও অনুপ্রেরণাদায়ী ভিডিও কনটেন্ট নির্মাণের মধ্য দিয়ে। গানের ভুবনে পথচলা, কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে নিজ ভাবনা ও অন্যান্য বিষয়ে কথা হয় তাঁর সঙ্গে
অনেক দিন পর একক গান প্রকাশ করলেন। ‘ভাব তরঙ্গ’ গানে যেভাবে জন্ম– সেই গল্পটা জানতে চাই।
‘ভাব তরঙ্গ’ গানের পরিকল্পনা সেই ২০২০ সালে, যখন করোনার ভয়ে সবাই গৃহবন্দি। পরিস্থিতি এমন ছিল যে, নতুন গানের পরিকল্পনা করেও কাজ এগুতে পারছিলাম না। তাই কয়েক বছর গানটি পড়েই ছিল। অবশেষে একদিন মুন ভাই [সংগীতায়োজক অটামনাল মুন] বলল, ফেলে না রেখে গানটি এবার শেষ করা যাক। এ কথার পরও গানটি রেকর্ড করতে চাইনি, আমার গলা বসে গিয়েছিল বলে। তারপরও সুরকারের অনুরোধে স্টুডিওতে গিয়ে একটি ডামি ভয়েস দিয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে মুন ভাই জানালেন, ডামি হিসেবে রেকর্ড করা কণ্ঠ শুনতে ভালোই লাগছে। নতুন করে আর রেকর্ড করার দরকার নেই, এটাই ফাইনাল।
গান কেমন হবে, কীভাবে প্রকাশ করা হবে– এই বিষয়গুলো কি সব সময় সুরকারের ওপর ছেড়ে দেন?
শিল্পী হিসেবে সব সময় চাই, ভালো গীতিকথা আর সুরে মাধুর্য্য আছে– এমন গান গাইতে। এজন্য কোনো গান করার আগে তার কথা, সুর, সংগীতায়োজন নিয়ে অনেক বাছবিচার করি। ‘ভাব তরঙ্গ’ গানের বেলায়ও এর ব্যতিক্রম হয়নি। এই গানটি গীতিকার কাজী আশরাফের সঙ্গে যৌথভাবে লিখেছেন অটামনাল মুন নিজেই। একই সঙ্গে সুর ও সংগীতায়োজনও করেছেন তিনি। আস্থার জায়গা থেকেই এই গানের গায়কি ভালো না মন্দ হলো, তার বিচারভার মুন ভাইয়ের ওপরই ছেড়ে দিয়েছিলাম।
এক যুগের বেশি সময় ধরে গান করে যাচ্ছেন। কিন্তু সমসাময়িকদের তুলনায় আপনার গানের সংখ্যা বেশি নয়, এর কারণ কী?
আমি সবসময় সুস্থ প্রতিযোগিতায় বিশ্বাসী। খ্যাতির মোহে গান করিনি, গানের সংখ্যাও বাড়াতে চাইনি। এই যুগে সবার মধ্যে যে ভাইরাল হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়, তা আদৌ ছিল না। গানের ভুবনে অনেক লোভনীয় প্রস্তাবও পেয়েছি। কিন্তু সস্তা জনপ্রিয়তা চাইনা বলেই সাড়া দেইনি।
এ বছর আর কোনো নতুন গান আসবে?
ইমরান মাহমুদুলের সঙ্গে গাওয়া একটি দ্বৈত গান প্রকাশ পাবে, এটুকু বলতে পারি। এর বাইরে চলতি বছর আর কোনো গান প্রকাশ পাবে কিনা– তা এখনই বলতে পারছি না।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবেও কি আপনার ভাবনা একই রকম?
হ্যাঁ, কনটেন্ট তৈরির সময়ও জনপ্রিয়তা পাওয়ার ভাবনাকে দূরে সরিয়ে রেখেছি। প্রতিটি ভিডিওতে সেই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছি, যা সুস্থ জীবনযাপন ও মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে; অনুপ্রেরণা জোগাবে প্রতিটি ভালো কাজের।
ভিডিও কনটেন্টগুলোয় নানা বিষয় নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়। এর জন্য তো প্রচুর পড়াশোনার প্রয়োজন পড়ে…
আমার ভিডিওগুলোয় যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা, বার্তা ও পরামর্শ দেওয়া হয়, তা নিয়ে সত্যিকার অর্থেই অনেক পড়াশোনা করতে হয়। আমার সুবিধা হলো, স্টুডিও শাটার আপ-এর কর্মীদের নিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে পারা। স্টুডিওর সবাই নানা বিষয়ে পড়াশোনা করে। তাই ভিডিওতে যখন যে বিষয়টি নিয়ে কথা বলি, তার তথ্য ঠিকঠাক আছে কিনা– দলের সদস্যদের কারণে সেটি ক্রস চেক করে নেওয়ার সুযোগ পাই।
কনটেন্ট ক্রিয়েটরের পরিচিতি কণ্ঠশিল্পী পরিচয়কে ছাপিয়ে যাবে– এটি কখনও ভেবেছিলেন কি?
কখনোই ভাবিনি, এমন কিছু হবে। তারপরও দর্শক-শ্রোতার কাছে যে পরিচিতি গড়ে উঠেছে তা নিয়ে আমি খুশি ও গর্বিত। ভালো কিছু করলে, তা কোনো না কোনোভাবে মানুষের মনে ছাপ ফেলবেই। সেই বিশ্বাস নিয়ে ধৈর্য ধরে কাজ করে গেছি।
কণ্ঠশিল্পীর পাশাপাশি হঠাৎ কনটেন্ট ক্রিয়েটর হওয়ার ইচ্ছা হলো?
কাছের মানুষগুলোর কাছ থেকেই এ বিষয়ে উৎসাহ পাওয়া। কয়েক বছর আগে এনটিভিতে উপস্থাপকদের নিয়ে একটা প্রতিযোগিতা হয়েছিল। সেখানে বিজয়ী হওয়ার পরই মূলত কনটেন্ট তৈরির ভাবনা শুরু। এ নিয়ে যারা উৎসাহিত করেছে, তার ভাষ্য ছিল এটাই– গান যেহেতু গাইছি, সেহেতু কথার মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপনও করাতে পারব।
নেপালি বংশোদ্ভূত হয়েও বাংলায় গান গাইছেন, ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করছেন। এমন শুদ্ধভাবে বাংলা ভাষা রপ্ত করলেন কীভাবে?
কেউ বিশ্বাস করবেন কিনা জানি না, সত্যি এটাই, বাংলা গান গাওয়ার জন্যই ভাষা শুদ্ধভাবে রপ্ত করার সবরকম চেষ্টা করে গেছি। বিশ বছর ধরে বাংলাদেশে আছি। বাবা, মা এবং আমরা দুই বোন এক ভাই এই দেশের মাটি ও মানুষের সঙ্গে মিশে গেছি। আমার পড়াশোনাও এখানকার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাই আগে ও পরে বাংলা ভাষা রপ্ত করে নেওয়াটা ছিল সময়ের দাবি।
বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার ইচ্ছা আছে?
আমার তো বারবারই ইচ্ছা বাংলাদেশে স্থায়ী হওয়া। অবশ্য এখনও নেপাল-বাংলাদেশ যাওয়া আসার মধ্যেই আছি। তারপরও যখনই এই প্রশ্ন আসে– বাংলাদেশে স্থায়ী হতে চাই কিনা, তাহলে সবসময় আমার উত্তরটা ‘হ্যাঁ’ হবে। কারণ, বংশগতভাবে নেপালি হলেও নিজেকে বাংলাদেশের বাইরের কেউ মনে করি না।
