
জাতীয় ডেস্ক | শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | ৬৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ ‘দ্য আটলান্টিক ক্রুজ’ এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। তবে যাত্রার জন্য ঘাটে অপেক্ষারত ১৯৪ জন পর্যটকের কোনও ক্ষতি হয়নি।
নিহত নুর কামাল (৩৫) ওই জাহাজের কর্মচারী ছিলেন। আগুন লাগার সময় জাহাজের একটি কক্ষে তিনি ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন বলে জানা গেছে।
শনিবার সকাল ৭টার দিকে যাত্রী পরিবহনের জন্য ঘাটে নোঙর করার সময় জাহাজটিতে হঠাৎ আগুন লেগে যায়।
বেলা ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও এখনো অগ্নিনির্বাপণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ও কোস্টগার্ডসহ প্রশাসনের স্বেচ্ছাসেবক টিম।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, জাহাজের এক কর্মচারীর পুড়ে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যিনি একটি কক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন। আর কেউ আছেন কিনা খোঁজা হচ্ছে। আগুন লাগার কারণ এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
সী ক্রুজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, ১৯৪ জন পর্যটক আজ এই জাহাজে করে সেন্টমার্টিন যাওয়ার কথা ছিল। সৌভাগ্যবশত কেউ জাহাজে উঠেননি, ঘাটে অপেক্ষা করছিলেন। যাত্রীদের একটি অংশকে অন্য জাহাজে করে ধারণক্ষমতা অনুপাতে সেন্টমার্টিনে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা আগামীকাল যাবেন।
আটলান্টিকের যাত্রী মোহাম্মদ ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ভাগ্য ভাল ছিল জাহাজে উঠা হয়নি। আল্লাহ রক্ষা করেছেন, নিজের চোখে আগুন জ্বলতে দেখলাম।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম বলেন, জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রয়োজনে কমিটির সদস্য সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে।
জেলা প্রশাসনের এ কর্মকর্তা বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ কিংবা অন্য কোনও কারণে আগুন লেগেছে কিনা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
গত ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন-কক্সবাজার নৌ রুটে জাহাজ চলাচল শুরু হলেও ১ ডিসেম্বর থেকে রাতযাপনের অনুমতি দিয়েছে সরকার। ১২টি নির্দেশনা মেনে প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক পরিবহনের জন্য ৬টি জাহাজ কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেয়েছে।
