মঙ্গলবার ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Advertise with us

সিঙ্গাপুরে ছন্দে ফেরার আশায় হামজারা

খেলাধুলা ডেস্ক   |   মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৬৯ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

সিঙ্গাপুরে ছন্দে ফেরার আশায় হামজারা

সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে দর্শক ধারণক্ষমতা ৫০ হাজারের বেশি। অথচ বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য বরাদ্দ মাত্র ছয় হাজার টিকিট। জামাল ভূঁইয়াদের টিম হোটেলের সামনে গিয়ে ‘টিকিট চাই টিকিট চাই’ ব্যানার লিখে দাঁড়িয়ে প্রবাসী দর্শকরা। চাইলেও তাদের ডাকে সাড়া দিতে পারছেন না বাংলাদেশের ফুটবলাররা। কারণ ম্যাচটি যে হচ্ছে সিঙ্গাপুরের নিজ গ্রাউন্ডে। যেখানে স্বাগতিক দর্শকদের অগ্রাধিকার থাকাটা অনুমেয়।

প্রবাসী দর্শকদের এমন আগ্রহের মধ্য দিয়ে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ। গ্রুপ ‘সি’তে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টায়। বাংলাদেশের কোচ হিসেবে হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার এটাই শেষ ম্যাচ। ভবিষ্যৎ নির্ধারণে স্প্যানিশ এ কোচের জন্য ম্যাচটি বড় পরীক্ষায়ই বলা চলে।

গত বছরের জুনে ঢাকায় প্রথম লেগে এই সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। সেই হারের পর পয়েন্ট টেবিলে বড় ধাক্কা খায় লাল-সবুজের দলটি। বাছাইয়ে এখন পর্যন্ত ভারতের বিপক্ষে জয়টিই বাংলাদেশের একমাত্র জয়। সেই জয়ে পাঁচ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে এখন টেবিলের তিন নম্বরে ক্যাবরেরার দল। বাংলাদেশের সামনে টেবিলের দুইয়ে ওঠার সুযোগ আছে। যদি আজ ভারতের কাছে হংকং হেরে যায়, আর সিঙ্গাপুরকে বাংলাদেশ হারায়। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও হংকংয়ের পয়েন্ট হবে সমান ৮। তখন চলে আসবে গোল পার্থক্য। ২০২৭ এশিয়ান কাপ চূড়ান্ত করা সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচটি যে কঠিনই হবে বাংলাদেশের, তা অনুমেয়। সর্বশেষ ভিয়েতনামের কাছে ৩-০ গোলের পরাজয়ে আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা লাগে হামজা চৌধুরী-শমিত সোমদের।

তবে গত কয়েকদিনের প্রস্তুতিতে এবং বাছাইয়ে অ্যাওয়ে ম্যাচে না হারার রেকর্ডটি আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে ক্যাবরেরাকে, ‘এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে এটা আমাদের শেষ ম্যাচ। পুরো প্রতিযোগিতায় আমরা ভালো করেছি; কিন্তু কয়েকটি ম্যাচে আমরা পয়েন্ট হারিয়েছি। ঘরের মাঠে ভারতকে হারিয়েছি; তবে সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ের মতো দলের সঙ্গে হেরেছি। পয়েন্ট নষ্ট করাতেই আমরা পরবর্তী রাউন্ডে যেতে পারিনি। এখন মাথা উঁচু করে আমরা শেষ করতে চাই। আমি বিশ্বাস করি সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ফাইট দিতে পারব। আমাদের টার্গেট ৩ পয়েন্ট।’

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের (১৮১) চেয়ে ৩৩ ধাপ এগিয়ে সিঙ্গাপুর। তিনবারের মুখোমুখি লড়াইয়ে একবারও তাদেরকে হারাতে পারেনি লাল-সবুজের দলটি। দুটিতে হেরেছে এবং একটিতে করেছে ড্র। সেই ড্রটি ছিল ১৯৭৩ সালে মারদেকা কাপে। ৫৩ বছর আগের স্মৃতি শুধু ফিরিয়েই আনতে চায় না, সিঙ্গাপুরের মাটিতে ইতিহাস গড়তে চায় বাংলাদেশ।

ইতিহাস গড়ার ম্যাচে প্রবাসী দর্শকদের পাশে চান বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া, ‘যখন আপনি ফুটবল খেলবেন, তখন আপনাকে দর্শকদের কথা মাথায় রাখতে হবে। সিঙ্গাপুরে অনেক প্রবাসী আছেন, যারা আগামীকাল আমাদের মাঠে এসে সমর্থন দিবেন। আমি মনে করি এই দর্শকরা আমাদের জন্য বড় প্রেরণা। দর্শকদের সবাই মাঠে ঢুকতে পারবে না। যারা ঢুকতে পারবেন না, তারাও আমাদের জন্য গলা ফাটাবেন। দর্শকদের জন্য মাত্র ছয় হাজার টিকিট বরাদ্দ করেছে সিঙ্গাপুর ফুটবল ফেডারেশন। আমি মনে করি সংখ্যাটা ১০ হাজার হলে ভালো হতো।’

কার্ডজনিত সমস্যায় গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে বাংলাদেশ দলে নেই ডিফেন্ডার তপু বর্মন ও স্ট্রাইকার রাকিব হোসেন। তবে দলে ফিরেছেন ইতালি প্রবাসী ফাহমিদুল ইসলাম। বরাবরের মতো আছেন বাংলাদেশ দলের প্রাণ হামজা চৌধুরী। লেস্টার সিটির এ মিডফিল্ডারকে দেখতে গত কয়েকদিন সিঙ্গাপুরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঢল নেমেছিল। তাই এই হামজাই পারেন এশিয়াডে বাংলাদেশের শেষটা রাঙাতে। কোচ ক্যাবরেরাও আত্মবিশ্বাস খুঁজে পেয়েছেন হামজা, শমিত, ফাহমিদুলের মতো ফুটবলারদের পেয়ে। সবাই দারুণ ছন্দে থাকায় চূড়ান্ত স্কোয়াড সাজাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কোচকে।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us
সম্পাদক
শেখ জাহাঙ্গীর আলম
যোগাযোগ