
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট | ২৬৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রথম থেকেই কিয়েভের পাশে দাড়িয়েছে দেশটির ইউরোপীয় মিত্ররা। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ পাশে না দাঁড়ালে যুদ্ধক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহও টিকত না ইউক্রেনের প্রতিরোধ।
অথচ এখন দেখা যাচ্ছে, ইউক্রেনের দৃঢ় মিত্র ইউরোপীয় দেশগুলোর অনেকেই রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতিকে জ্বালানি সরবরাহ করছে। ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, রোমানিয়া ও পর্তুগালের মতো দেশগুলো একদিকে কিয়েভকে সামরিক ও মানবিক সহায়তা দিচ্ছে, অন্যদিকে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও গ্যাস কিনে মস্কোর রাজস্বভান্ডার পূরণ করছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ২০২২ সালের পর থেকে রাশিয়ার ওপর জ্বালানিনির্ভরতা প্রায় ৯০ শতাংশ কমালেও চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ১১ বিলিয়ন ইউরোর বেশি রাশিয়ান জ্বালানি আমদানি করেছে। গত বছরের তুলনায় আমদানি বাড়িয়েছে ইইউর সাতটি সদস্য দেশ। এর মধ্যে ফ্রান্সের আমদানি বেড়েছে ৪০ শতাংশ, নেদারল্যান্ডসের ৭২ শতাংশ, রোমানিয়ার ৫৭ শতাংশ এবং পর্তুগালের প্রায় ১৬৭ শতাংশ।
ইইউ-রাশিয়া বিশ্লেষক বৈভব রঘুনন্দন বলেন, ‘এটি এক ধরনের আত্মঘাতী পদক্ষেপ। ইউরোপীয় অর্থ থেকেই শক্তি অর্জন করছে রাশিয়ার সেনাবাহিনী।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জাতিসংঘে ইউরোপীয় নেতাদের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘ইউরোপ রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, অথচ রাশিয়ার কাছ থেকেই তেল-গ্যাস কিনছে– এটি লজ্জাজনক।’
ফ্রান্সের টোটাল এনার্জিস, ব্রিটিশ শেল, স্পেনের নাটুরজি, জার্মানির এসইএফই এবং ট্রেডিং কোম্পানি গুনভর এখনও রাশিয়ান তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করছে। রাশিয়ার সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ২০৩০ থেকে ২০৪০ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। জার্মান সরকার জানিয়েছে, এসব চুক্তি বাতিল করা আইনগতভাবে সম্ভব নয়। সরবরাহ না নিলেও কোম্পানিগুলোকে মূল্য পরিশোধ করতে হয়, যা শেষ পর্যন্ত রাশিয়ার অর্থনীতিকেই দ্বিগুণভাবে উপকৃত করছে।
কিয়েভের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় রুশ হামলা, অন্ধকারে ৬ লাখ মানুষ
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বৃহস্পতিবার রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। শহরের বড় অংশ অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছে। বিদ্যুতের অভাবে অন্ধকারে ডুবেছেন প্রায় ছয় লাখ মানুষ। বন্ধ হয়ে গেছে পানি সরবরাহ ও মেট্রো সেবা। হামলায় এক শিশুসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কিয়েভ কর্তৃপক্ষ। প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ‘রাশিয়া ঠান্ডা ও অন্ধকারকে সন্ত্রাসের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।’ রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনের সামরিক শিল্পে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী অবকাঠামো লক্ষ্য করে এটি ছিল ‘বৃহৎ প্রতিশোধমূলক হামলা।’
জেলেনস্কির বিরুদ্ধে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার অভিযোগ
ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী সাংসদ ওলেগ সিনিউটকা অভিযোগ করেছেন, সামরিক আইনকে অজুহাত করে স্থানীয় নির্বাচন স্থগিত রেখে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। তাঁর মতে, ‘এই পথে চললে ইউক্রেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ন্যাটোর সদস্যপদ পাওয়ার স্বপ্ন থেকে দূরে সরে যাবে।’
