
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | ২০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ভারতের কয়েকটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের জন্য এই নির্বাচনকে জনসমর্থনের এক বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আসাম ও কেরালা রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পদুচেরিতে লাখ লাখ ভোটার লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন। খবর বিবিসির।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান দফায় মোট ২৯৬টি আসনে ভোট গ্রহণ চলছে। এর মধ্যে আসামে ১২৬টি, কেরালায় ১৪০টি এবং পদুচেরিতে ৩০টি আসন রয়েছে। নির্বাচনে মোট ১৭ কোটি ৪০ লাখ ভোটার অংশ নিচ্ছেন, যা ভারতের মোট ভোটারের প্রায় ১৮ শতাংশ। চলতি মাসের শেষের দিকে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু রাজ্যেও ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সব ক’টি নির্বাচনের ফল ঘোষিত হবে আগামী ৪ মে।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আসামে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। গতকাল বিকেল ৩টা পর্যন্ত আসামে ভোট পড়েছে প্রায় ৭৫ দশমিক ৯১ শতাংশ। একই সময়ে কেরালায় ৬২ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং পদুচেরিতে ৭২ দশমিক ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, গত বছরের সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার পর আসামে এটিই প্রথম নির্বাচন, যা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বিজেপি বনাম বিরোধী জোট
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন বিজেপির জন্য যতটা না কেন্দ্রীয় সরকার টিকিয়ে রাখার লড়াই, তার চেয়ে বেশি হলো অঞ্চলগুলোয় নিজেদের প্রভাব বিস্তারের পরীক্ষা। ঐতিহাসিকভাবে দুর্বল এই অঞ্চলগুলোয় দলটি বছরের পর বছর ধরে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে কাজ করছে।
পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলোয় বিজেপি কখনোই এককভাবে সরকার গঠন করতে পারেনি।
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোর জন্য এটি টিকে থাকার লড়াই। কংগ্রেসসহ অন্য আঞ্চলিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে বিজেপির আধিপত্য রুখতে পারবে কিনা, তা এই ফলের ওপর নির্ভর করছে। কেরালায় এবার বামপন্থি ফ্রন্ট, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট এবং বিজেপির মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
নির্বাচনের মধ্যেই ভোটার তালিকায় সংশোধন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লাখ লাখ ভোটারকে (বিশেষ করে মুসলিম ভোটারদের) তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তালিকায় থাকা ভুয়া ও দ্বৈত নাম বাদ দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আসতে পারে নতুন মুখ
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এবার বিশেষ নজর কেড়েছেন সুপারস্টার বিজয়। তাঁর দল তামিলগা ভেট্টি কাজাগাম এবারের নির্বাচনে প্রথমবার অংশ নিচ্ছে।
এদিকে, নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যেই কেরালায় মন্দির প্রথা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে সবরিমালা-সংক্রান্ত এক শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হিন্দু ধর্মে নারীদের পুরুষের সমান বা তার চেয়েও উচ্চ আসনে বসানো হয়। উদাহরণ হিসেবে দেশটির এমন কিছু মন্দিরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে পুরুষদের প্রবেশে কড়াকড়ি রয়েছে।
সব মিলিয়ে এই নির্বাচন ভারতের জাতীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
