
অর্থনীতি ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | ১৬৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়াই ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোয় ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি আরও বলেন, খুব শিগগির বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে বসবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
কোনো ঘোষণা ছাড়াই ভোক্তা পর্যায়ে সয়াবিন তেলের দাম বাড়িয়েছে আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। এক লাফে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে বাড়ানো হয়েছে ৯ টাকা। খোলা তেলের দামও বেড়েছে লিটারে ৫ টাকার মতো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে সরকারকে কিছুই জানানো হয়নি। কোম্পানিগুলো সামগ্রিকভাবে একত্র হয়ে দাম বাড়িয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ব্যবসায়ীরা যে প্রক্রিয়ায় ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়েছেন, এর আইনগত কোনো ভিত্তি নেই।
সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে জানতে চাইলে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, আলোচনার মাধ্যমে কর্মপদ্ধতি ঠিক করা হবে।
গত মঙ্গলবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে টিসিবির জন্য দেড় কোটি লিটার ভোজ্যতেল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল ও এক কোটি লিটার রাইস ব্র্যান তেল কেনা হবে। সরকার গত মঙ্গলবার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে যে দামে ভোজ্যতেল কিনেছে, বুধবার বাজারে তার চেয়ে ২০ টাকা বেশি দামে তেল বিক্রি হয়েছে। তিনি এর যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না।
ব্যবসায়ীরা সরকারকে পাশ কাটিয়ে কীভাবে তেলের দাম বাড়ালেন– এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘এ প্রশ্ন ব্যবসায়ীদের করুন। আলোচনার পাশাপাশি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এটা তো বাজারে গিয়ে তলোয়ার নিয়ে যুদ্ধ করার বিষয় নয়। সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত করতে চাই না আমরা। যদি আইন লঙ্ঘন হয়ে থাকে তাহলে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবেন কিনা এমন প্রশ্নে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘নিশ্চয়ই নেব। কেন নেব না? আইনগতভাবে যে ব্যবস্থাগুলো আছে সবগুলোই নেব।’
ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের দাবি, দাম বাড়ানোর বিষয়ে মন্ত্রণালয় কিংবা ট্যারিফ কমিশনের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। এমন দাবি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এটা তাদের বক্তব্য। তাদের এ কথা আমরা মানি না।’
এদিকে আজ বৃহস্পতিবার বাণিজ্য সচিবের সভাপতিত্বে ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ বিষয়ে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবিত অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনের খসড়া নিয়ে বৈঠক হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এএইচএম সফিকুজ্জামান। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী কিছু পণ্যের দাম বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করে দেয়। মূল্য নির্ধারণ কীভাবে করা হবে, সেটার একটা সূত্র আছে। হঠাৎ ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ৯ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভোজ্যতেল পরিশোধন কারখানার সমিতি যদি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শ না করে তেলের দাম বাড়ায়, তা আইনের ব্যত্যয়।
তিনি বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া তেলের দাম বৃদ্ধি ভোক্তার অধিকারের প্রশ্ন। বাণিজ্য উপদেষ্টা যে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন, আমরা তা দেখার অপেক্ষায় আছি।’ পরিশোধন কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার মতো বিধানও আইনে আছে জানিয়ে ক্যাব সভাপতি বলেন, ‘যদি কেউ মজুত করে দাম বাড়ায়, সেখানে বিশেষ আইন প্রয়োগের ব্যবস্থাও আছে। আমরা আইনের প্রয়োগ দেখতে চাই।’
