
জাতীয় ডেস্ক | রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | ৫২৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

দেশে বিদ্যুতের প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ (লাইফলাইন) গ্রাহক প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ। তারা খুবই কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। সরকার নির্ধারিত বিশেষ মূল্যহারে (অন্যদের তুলনায় কম) বিদ্যুৎ বিল দেন তারা। এই গ্রাহকদের নগদ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মতো এটি বাস্তবায়িত হবে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরামর্শ অনুসারে এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আইএমএফের মতে, সরকার বছরে বিদ্যুৎ খাতে যে ভর্তুকি দেয়, কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে এর বড় অংশই ধনীরা ভোগ করছেন। গরিবরা পান ছিটেফোঁটা। এই বৈষম্য দূর করতেই প্রান্তিক গ্রাহকদের নগদ সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে অন্য গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল কিছুটা বাড়তে পারে।
সূত্র জানিয়েছে, বিদ্যুৎ বিভাগ ইতোমধ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। এর নেতৃত্বে রয়েছেন অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী রেজা। এই কমিটির প্রধান কাজ হবে প্রকৃত ঝুঁকিপূর্ণ গ্রাহকদের শনাক্ত করে তাদের সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তাব তৈরি করা। আজ রোববার এই কমিটির বৈঠকে বসার কথা।
বর্তমানে মাসে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত আবাসিক বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীরা লাইফলাইন গ্রাহক হিসেবে বিবেচিত হন। প্রথম ধাপের (শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত) আবাসিক গ্রাহকদের বিদ্যুতের বিল প্রতি ইউনিট ৫ টাকা ২৬ পয়সা হলেও লাইফলাইন গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের বিল ৪ টাকা ৬৩ পয়সা।
বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিনিধিরা কমিটিতে যুক্ত হয়েছেন, যাতে প্রকৃত ঝুঁকিপূর্ণ গ্রাহকদের সঠিকভাবে শনাক্ত করা যায়। সরকারের লক্ষ্য হলো বার্ষিক বাজেটভিত্তিক ভর্তুকির পরিবর্তে সরাসরি নগদ সহায়তা নিশ্চিত করা।
গত আগস্ট পর্যন্ত দেশে বিদ্যুৎ গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৮৮ লাখ। লাইফলাইনের ১ কোটি ৮০ লাখ গ্রাহকের মধ্যে ১ কোটি ৬৩ লাখ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) আওতায় পড়েন।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, বর্তমানে ভর্তুকির প্রধান সুবিধাভোগী উচ্চ মধ্যবিত্তরা। বিদ্যুতের বিল পরিবারের আয়ের ১০ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত নয়, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এটি ৩০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়। এ কারণে প্রান্তিক গ্রাহকদের সরাসরি ভর্তুকি দেওয়া সঠিক পদক্ষেপ। তবে এটি বাস্তবায়ন কঠিন। প্রকৃত ঝুঁকিপূর্ণ গ্রাহকদের শনাক্ত করতে নির্ভরযোগ্য তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থা থাকা দরকার। সরকারের কাছে সব পরিবারের আয়ের সঠিক তথ্য নেই। এই ডেটাবেস তৈরি করতে কয়েক বছর লাগবে।
ভারতে এলপিজি গ্যাস খাতে ব্যক্তি পর্যায়ে এ ধরনের ভর্তুকি দেওয়ার উদাহরণ আছে। বর্তমানে দেশটির নিম্ন আয়ের মানুষেরা এলপিজি সিলিন্ডার প্রতি ৩০০ রুপি ভর্তুকি পায়। বছরে সর্বোচ্চ ৯টি সিলিন্ডারের জন্য এই ভর্তুকি পাবে। এই অর্থ সরাসরি গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়।
ভর্তুকির সুবিধাভোগী ধনীরা
গত জুন মাসে সরকারের কাছে জমা দেওয়া আইএমএফের কারিগরি সহায়তা-সংক্রান্ত খসড়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির মূল সুবিধাভোগী ধনী গ্রাহকরা। সংস্থাটির মতে, বাংলাদেশে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে দেওয়া ভর্তুকির মাত্র ১২ শতাংশের সুবিধাভোগী সবচেয়ে গরিবরা (প্রান্তিক গ্রাহক)। বিপরীতে ৩২ শতাংশের সমপরিমাণ পাচ্ছেন সবচেয়ে ধনী ২০ শতাংশ গ্রাহক। ধনী গ্রাহকদের ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে প্রায় ৫১ হাজার কোটি টাকা। বৈষম্যমূলক কাঠামোর কারণে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি করছে। এই প্রতিবেদনেই সংস্থাটি ভর্তুকি কমাতে কাঠামোগত সংস্কারের পাশাপাশি প্রয়োজনে সরাসরি দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে ভর্তুকি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন একই ধরনের পরামর্শ দিয়ে বলেন, ভর্তুকির সুফল মূলত ধনীরা পান। কারণ, তারাই বিদ্যুৎ-জ্বালানি বেশি ভোগ করেন। এ জন্য দাতাগোষ্ঠী ভর্তুকি থেকে বের হতে চাপ দেয়। কিন্তু সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তা–সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাঁর পরামর্শ, ভর্তুকি কমাতে হবে এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতের আওতা বাড়াতে হবে। তাহলে ভর্তুকিশূন্য হলেও প্রান্তিক পর্যায়ের ক্ষতিগ্রস্তরা ভিন্ন নামে ক্ষতিপূরণ পাবেন।
দেশে বিদ্যুতের প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ (লাইফলাইন) গ্রাহক প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ। তারা খুবই কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। সরকার নির্ধারিত বিশেষ মূল্যহারে (অন্যদের তুলনায় কম) বিদ্যুৎ বিল দেন তারা। এই গ্রাহকদের নগদ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মতো এটি বাস্তবায়িত হবে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরামর্শ অনুসারে এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আইএমএফের মতে, সরকার বছরে বিদ্যুৎ খাতে যে ভর্তুকি দেয়, কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে এর বড় অংশই ধনীরা ভোগ করছেন। গরিবরা পান ছিটেফোঁটা। এই বৈষম্য দূর করতেই প্রান্তিক গ্রাহকদের নগদ সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে অন্য গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল কিছুটা বাড়তে পারে।
সূত্র জানিয়েছে, বিদ্যুৎ বিভাগ ইতোমধ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। এর নেতৃত্বে রয়েছেন অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী রেজা। এই কমিটির প্রধান কাজ হবে প্রকৃত ঝুঁকিপূর্ণ গ্রাহকদের শনাক্ত করে তাদের সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তাব তৈরি করা। আজ রোববার এই কমিটির বৈঠকে বসার কথা।
বর্তমানে মাসে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত আবাসিক বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীরা লাইফলাইন গ্রাহক হিসেবে বিবেচিত হন। প্রথম ধাপের (শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত) আবাসিক গ্রাহকদের বিদ্যুতের বিল প্রতি ইউনিট ৫ টাকা ২৬ পয়সা হলেও লাইফলাইন গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের বিল ৪ টাকা ৬৩ পয়সা।
বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিনিধিরা কমিটিতে যুক্ত হয়েছেন, যাতে প্রকৃত ঝুঁকিপূর্ণ গ্রাহকদের সঠিকভাবে শনাক্ত করা যায়। সরকারের লক্ষ্য হলো বার্ষিক বাজেটভিত্তিক ভর্তুকির পরিবর্তে সরাসরি নগদ সহায়তা নিশ্চিত করা।
গত আগস্ট পর্যন্ত দেশে বিদ্যুৎ গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৮৮ লাখ। লাইফলাইনের ১ কোটি ৮০ লাখ গ্রাহকের মধ্যে ১ কোটি ৬৩ লাখ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) আওতায় পড়েন।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, বর্তমানে ভর্তুকির প্রধান সুবিধাভোগী উচ্চ মধ্যবিত্তরা। বিদ্যুতের বিল পরিবারের আয়ের ১০ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত নয়, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এটি ৩০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়। এ কারণে প্রান্তিক গ্রাহকদের সরাসরি ভর্তুকি দেওয়া সঠিক পদক্ষেপ। তবে এটি বাস্তবায়ন কঠিন। প্রকৃত ঝুঁকিপূর্ণ গ্রাহকদের শনাক্ত করতে নির্ভরযোগ্য তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থা থাকা দরকার। সরকারের কাছে সব পরিবারের আয়ের সঠিক তথ্য নেই। এই ডেটাবেস তৈরি করতে কয়েক বছর লাগবে।
ভারতে এলপিজি গ্যাস খাতে ব্যক্তি পর্যায়ে এ ধরনের ভর্তুকি দেওয়ার উদাহরণ আছে। বর্তমানে দেশটির নিম্ন আয়ের মানুষেরা এলপিজি সিলিন্ডার প্রতি ৩০০ রুপি ভর্তুকি পায়। বছরে সর্বোচ্চ ৯টি সিলিন্ডারের জন্য এই ভর্তুকি পাবে। এই অর্থ সরাসরি গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়।
ভর্তুকির সুবিধাভোগী ধনীরা
গত জুন মাসে সরকারের কাছে জমা দেওয়া আইএমএফের কারিগরি সহায়তা-সংক্রান্ত খসড়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির মূল সুবিধাভোগী ধনী গ্রাহকরা। সংস্থাটির মতে, বাংলাদেশে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে দেওয়া ভর্তুকির মাত্র ১২ শতাংশের সুবিধাভোগী সবচেয়ে গরিবরা (প্রান্তিক গ্রাহক)। বিপরীতে ৩২ শতাংশের সমপরিমাণ পাচ্ছেন সবচেয়ে ধনী ২০ শতাংশ গ্রাহক। ধনী গ্রাহকদের ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে প্রায় ৫১ হাজার কোটি টাকা। বৈষম্যমূলক কাঠামোর কারণে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি করছে। এই প্রতিবেদনেই সংস্থাটি ভর্তুকি কমাতে কাঠামোগত সংস্কারের পাশাপাশি প্রয়োজনে সরাসরি দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে ভর্তুকি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন একই ধরনের পরামর্শ দিয়ে বলেন, ভর্তুকির সুফল মূলত ধনীরা পান। কারণ, তারাই বিদ্যুৎ-জ্বালানি বেশি ভোগ করেন। এ জন্য দাতাগোষ্ঠী ভর্তুকি থেকে বের হতে চাপ দেয়। কিন্তু সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তা–সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাঁর পরামর্শ, ভর্তুকি কমাতে হবে এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতের আওতা বাড়াতে হবে। তাহলে ভর্তুকিশূন্য হলেও প্রান্তিক পর্যায়ের ক্ষতিগ্রস্তরা ভিন্ন নামে ক্ষতিপূরণ পাবেন।
আইএমএফের পরামর্শ
আইএমএফ তিন ধাপে ভর্তুকি সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছিল। এর একটি হলো সরাসরি ভর্তুকি তুলে দিয়ে সর্বনিম্ন ৬০ শতাংশ পরিবারকে মাসে ৪৮৮ টাকা করে সহায়তা দেওয়া। এতে ৬৪ শতাংশ ভর্তুকি কমানো সম্ভব। আরেকটি হলো– বিদ্যুৎ মূল্যকে সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধাভোগীদের তালিকার সঙ্গে যুক্ত করে প্রকৃত দরিদ্রদের ভর্তুকি দেওয়া। আইএমএফের মতে, এতে ৫৮ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি সাশ্রয় সম্ভব।
বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি ৬২ হাজার কোটি টাকা
২০০৯ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৪ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট। গত ১৬ বছরে তা বেড়ে হয়েছে ৩০ হাজার ৭৮০ মেগাওয়াট। অথচ দেশের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াট। চাহিদা না থাকলেও আওয়ামী লীগ সরকারদলীয় ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিতে একের পর এক অপ্রয়োজনীয় কেন্দ্র বানিয়েছিল। ফলে উৎপাদন না করেও কেন্দ্র মালিকরা প্রতিবছর শত শত কোটি টাকা সরকার থেকে পেয়েছেন, যার প্রভাবে বেড়েছে বিদ্যুতের খরচ।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে পিডিবির বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট কিনতে লেগেছে ১১ টাকা ৭৪ পয়সা, যা ২০১৯-২০ অর্থবছরে ছিল ৬ টাকা ১৮ পয়সা। অর্থাৎ মাত্র পাঁচ বছরে খরচ দ্বিগুণ হয়েছে। এ চাপ সামলাতে তৎকালীন সরকার বারবার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে।
২০০৯ সালে বিদ্যুতের খুচরা দাম ছিল প্রতি ইউনিট ৩ টাকা ৭৩ পয়সা। এখন হয়েছে ৮ টাকা ২৫ পয়সা। এর পরও উৎপাদন খরচের সঙ্গে খুচরা দামের সমতা হয়নি। পিডিবির লোকসান কমাতে সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে।
২০১৯-২০ অর্থবছরে পিডিবির ভর্তুকি ছিল ৭ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা। ভর্তুকি বেড়ে ২০২০-২১ অর্থবছরে ১১ হাজার ৭৭৮ কোটি, ২০২১-২২ অর্থবছরে ১২ হাজার ৮০০, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৯ হাজার ৫১১, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩৯ হাজার ৪০০ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভর্তুকি ৬২ হাজার কোটি টাকা হয়েছে।
আইএমএফ বলেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিদ্যুৎ-গ্যাস মিলে ভর্তুকি ছিল জিডিপির ১ দশমিক ৩২ শতাংশ। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কিছুটা কমে ১ দশমিক ১ শতাংশ হলেও বাজেটের ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে।
আইএমএফের পরামর্শ
আইএমএফ তিন ধাপে ভর্তুকি সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছিল। এর একটি হলো সরাসরি ভর্তুকি তুলে দিয়ে সর্বনিম্ন ৬০ শতাংশ পরিবারকে মাসে ৪৮৮ টাকা করে সহায়তা দেওয়া। এতে ৬৪ শতাংশ ভর্তুকি কমানো সম্ভব। আরেকটি হলো– বিদ্যুৎ মূল্যকে সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধাভোগীদের তালিকার সঙ্গে যুক্ত করে প্রকৃত দরিদ্রদের ভর্তুকি দেওয়া। আইএমএফের মতে, এতে ৫৮ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি সাশ্রয় সম্ভব।
বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি ৬২ হাজার কোটি টাকা
২০০৯ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৪ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট। গত ১৬ বছরে তা বেড়ে হয়েছে ৩০ হাজার ৭৮০ মেগাওয়াট। অথচ দেশের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াট। চাহিদা না থাকলেও আওয়ামী লীগ সরকারদলীয় ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিতে একের পর এক অপ্রয়োজনীয় কেন্দ্র বানিয়েছিল। ফলে উৎপাদন না করেও কেন্দ্র মালিকরা প্রতিবছর শত শত কোটি টাকা সরকার থেকে পেয়েছেন, যার প্রভাবে বেড়েছে বিদ্যুতের খরচ।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে পিডিবির বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট কিনতে লেগেছে ১১ টাকা ৭৪ পয়সা, যা ২০১৯-২০ অর্থবছরে ছিল ৬ টাকা ১৮ পয়সা। অর্থাৎ মাত্র পাঁচ বছরে খরচ দ্বিগুণ হয়েছে। এ চাপ সামলাতে তৎকালীন সরকার বারবার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে।
২০০৯ সালে বিদ্যুতের খুচরা দাম ছিল প্রতি ইউনিট ৩ টাকা ৭৩ পয়সা। এখন হয়েছে ৮ টাকা ২৫ পয়সা। এর পরও উৎপাদন খরচের সঙ্গে খুচরা দামের সমতা হয়নি। পিডিবির লোকসান কমাতে সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে।
২০১৯-২০ অর্থবছরে পিডিবির ভর্তুকি ছিল ৭ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা। ভর্তুকি বেড়ে ২০২০-২১ অর্থবছরে ১১ হাজার ৭৭৮ কোটি, ২০২১-২২ অর্থবছরে ১২ হাজার ৮০০, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৯ হাজার ৫১১, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩৯ হাজার ৪০০ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভর্তুকি ৬২ হাজার কোটি টাকা হয়েছে।
আইএমএফ বলেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিদ্যুৎ-গ্যাস মিলে ভর্তুকি ছিল জিডিপির ১ দশমিক ৩২ শতাংশ। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কিছুটা কমে ১ দশমিক ১ শতাংশ হলেও বাজেটের ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে।
