
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | ৮৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

আগামী বছরের মার্চে নেপালে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাম্প্রতিক গণআন্দোলনের অন্যতম নেতা সুধন গুরুং ও তাঁর সহযোগীরা। ৩৬ বছর বয়সী গুরুং বলেন, দুর্নীতি ও দমননীতির বিরুদ্ধে লড়াই শুধু রাস্তায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, এবার তা নির্বাচনী রাজনীতিতেও চলবে। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক এই আন্দোলন ছিল জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম।
নেপালের সাবেক সরকারের সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত থেকে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। দ্রুতই সেই ক্ষোভ দুর্নীতি, বৈষম্য ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে জাতীয় আন্দোলনে রূপ নেয়। আন্দোলন দমনে সরকার শক্তি প্রয়োগ করলে সহিংসতায় প্রাণ হারান অন্তত ৭৩ জন, আহত হন হাজারো আন্দোলনকারী। দেশটির সংসদ ও সরকারি বিভিন্ন ভবনে আগুন দেওয়া হয়।
সরকার পতনের পর দেশটির অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। তাঁর মূল দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে আগামী বছরের মার্চে অনুষ্ঠেয় নির্বাচন আয়োজন করা। তবে দেশটিতে অর্থনৈতিক ধস, যুব বেকারত্ব, নিরাপত্তাহীনতা ও জনগণের আস্থাহীনতা তাঁর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক এই সহিংসতায় দেশটির বেসরকারি খাতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার। শুধু পর্যটন খাতেই ক্ষতি হয়েছে ১৭৭ মিলিয়ন ডলার, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দুই হাজারেরও বেশি কর্মী। দেশটির বহু তরুণ প্রতিদিন কাজের খোঁজে নেপাল ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন।
গুরুংয়ের মতে, জনগণের ঐক্য ছাড়া পরিবর্তন সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রশ্নে গুরুং বলেন, ‘আমি হয়তো এখনও সঠিক ব্যক্তি নই। তবে জনগণ চাইলে অবশ্যই প্রস্তুত।’ গুরুং বলেন, ‘আমি ভয় পাই না। আমাকে হত্যা করলেও আন্দোলন থামবে না। দেশকে বাঁচানোর এখনই সময়।’
অন্যদিকে, দুর্নীতিবিরোধী হটলাইন চালু করেছেন কার্কি। আন্দোলনে নিহতদের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তেরও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, নির্বাচন সময়মতো না হলে আবারও অস্থির হয়ে উঠতে পারে নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গন। খবর আলজাজিরা ও এএফপি।
