
অর্থনীতি ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | ৬৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি আর চলতে দেওয়া যায় না। অর্থনীতির উদারীকরণ হবে। দেশের জনগণের অংশগ্রহণ থাকবে এমন অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে। গতকাল বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে গতকালই ছিল তাঁর প্রথম কার্যদিবস।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশে বড় ধরনের ‘ডিরেগুলেশন’ করতে হবে। তাঁর মতে, বাংলাদেশ এখন অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের বেড়াজালে আটকে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক রাজনীতির চর্চার ফলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি জানান, দেশের অর্থনীতিকে আরও উদার ও প্রতিযোগিতামুখী করতে হবে। এজন্য পৃষ্ঠপোষকতানির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এতে সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে।
তিনি বলেন, আমাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর একেবারে খারাপ অবস্থা। এগুলো ঠিক করতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা আনতে হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতি সব মানুষের জন্য হতে হবে। বাংলাদেশে সবার জন্য সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) থাকতে হবে, যাতে অর্থনীতির সুফল তাদের কাছে যায়।
নবগঠিত সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেন। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এর আগে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত এ দেশে ২২ জন অর্থমন্ত্রী ও অর্থ উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন।
মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে মন্ত্রণালয়ে বরণ
গতকাল অর্থ বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নতুন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিকে বরণ করেন অর্থ মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর, অর্থ সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সচিব নাজমা মোবারেকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ
গতকাল সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, অতীতে অনেক কষ্ট করে, বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে স্মৃতিসৌধে এসেছিলেন। তবে এবার তা পোহাতে হয়নি। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের জায়গায় মুক্তিযুদ্ধ, চব্বিশের জায়গায় চব্বিশ। একটার সঙ্গে আরেকটা পরস্পরবিরোধী কিছু না। মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছে এই দেশের জন্মের যুদ্ধ আর চব্বিশ হচ্ছে আমাদের স্বৈরাচার নিপাত করে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার যুদ্ধ। সুতরাং দুটির দুই ভ্যালু আছে, মূল্যবোধ আছে। দুটিকেই রেসপেক্ট করতে হবে।’ তিনি বলেন, অনেক প্রতিবাদ হয়েছে, বিপ্লব হয়েছে, আন্দোলন হয়েছে, মানুষ জীবন দিয়েছে, সবাইকে মাথায় রাখতে হবে, কাউকে তো বাদ দেওয়া যাবে না।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বিলুপ্ত হচ্ছে
এদিকে দায়িত্ব পাওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা হবে। তাঁর ভাষায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে তার নিয়ন্ত্রক ভূমিকা যথাযথভাবে পালন করতে দিতে হবে। এ জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বিলুপ্ত করে সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ন্যস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান।
এ ছাড়া রাজস্ব আদায় বাড়াতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংস্কারও অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের বর্তমান আর্থিক অবস্থা, মোট ব্যয়ের পরিমাণ, রাজস্ব আদায় এবং কর-জিডিপি অনুপাত বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত নিম্নপর্যায়ে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই-বাছাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
