বৃহস্পতিবার ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

এলএনজিতে বিশ্বব্যাংকের ঋণ গ্যারান্টি চায় সরকার

অর্থনীতি ডেস্ক   |   সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৮১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

এলএনজিতে বিশ্বব্যাংকের ঋণ গ্যারান্টি চায় সরকার

গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধের প্রভাবে দেশে জ্বালানি সংকট নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জ্বালানির অভাবে পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। জ্বালানি সংকটের অভিঘাতে শিল্পকারখানা চালু রাখা, কৃষিতে সেচের কাজসহ সার্বিক অর্থনীতিতে ব্যাপক চাপ তৈরি হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে জরুরি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে বিশ্বব্যাংকের কাছে ২৫ কোটি ডলার ক্রেডিট গ্যারান্টি চেয়েছে সরকার। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সম্প্রতি ইআরডির কাছে ঋণ পাওয়ার বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (আইডিএ) কাছে ঋণ গ্যারান্টি চাওয়া হয়েছে। নতুন আবেদন মঞ্জুর হলে চলতি অর্থবছর বাংলাদেশের জন্য বিশ্বব্যাংকের গ্যারান্টি ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৬০ কোটি ডলার। গত ২৩ ডিসেম্বর একইভাবে এলএনজি আমদানিতে বিশ্বব্যাংকের ৩৫ কোটি ডলারের ঋণ গ্যারান্টি চুক্তি সই করে সরকার।

সরকারের এ উদ্যোগের বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান সমকালকে বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে হাত না দিয়ে বিকল্প উপায়ে জ্বালানি সংকট কাটানোর একটা ভালো উপায়। তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশ আপৎকালীন এভাবে ‘লোন গ্যারান্টি’ নিয়ে থাকে। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবে এরই মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫ ডলার বেড়েছে। এলএনজির দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। স্পট মার্কেট থেকে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে। এ রকম পরিস্থিতিতে জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রাখা এবং রিজার্ভে চাপ তৈরি হতে না দেওয়ার এই প্রচেষ্টা নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী।

ইআরডি-সংশ্লিষ্ট বিশ্বব্যাংক উইংয়ের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস মজুত কমে যাওয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জরুরি ঋণ গ্যারান্টি চাওয়া হয়েছে বিশ্বব্যাংকের কাছে। আইডিএ গ্যারান্টি ব্যবহারের ফলে প্রচলিত উচ্চ সুদের ঋণের তুলনায় সুদ বাবদ প্রায় ১ শতাংশ ব্যয় সাশ্রয় হবে।

দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। বর্তমানে সরবরাহ দেওয়া হয় ২৬৫ কোটি ঘনফুটের কিছু বেশি। এর মধ্যে এলএনজি সরবরাহ হয় ৯৫ কোটি ঘনফুট। গ্যাসের ৬০ শতাংশের বেশি ব্যবহার হয় বিদ্যুৎ ও সার কারখানায়। গ্যাস সংকটে ইতোমধ্যে আটটি সার কারখানার পাঁচটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট আগে থেকেই আছে কারখানায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে সংকট প্রকট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান সমকালকে বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে কাতার ও ওমান ছাড়াও স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কার্গো এনে গ্রিডে সরবরাহ দেওয়া হয়। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বৃহৎ এলএনজি সরবরাহকারী দেশ কাতারের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় চ্যালেঞ্জ বেড়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us
সম্পাদক
শেখ জাহাঙ্গীর আলম
যোগাযোগ