শুক্রবার ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

একীভূত পাঁচ ব্যাংকের মুনাফা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিতর্কের মুখে

অর্থনীতি ডেস্ক   |   সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১২৫ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

একীভূত পাঁচ ব্যাংকের মুনাফা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিতর্কের মুখে

একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য মুনাফা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের পর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় গিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন অনেক আমানতকারী।

একীভূত হওয়া কোনো কোনো ব্যাংকের তরফ থেকে এ বিষয়ে লিখিতভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও এসব ব্যাংকের অবহেলায় অর্থ আত্মসাতের কারণে লোকসানের দায় আমানতকারীদের ওপর চাপানোর বিষয়টি শরিয়াহ সম্মত হবে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ডে আলোচনা হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে।

ঋণের নামে অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মের কারণে দুর্বল হয়ে পড়া এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করেছে সরকার। এসব ব্যাংকে প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর এক লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা জমা আছে। তাদের বিতরণ করা এক লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা ঋণের ৭৭ শতাংশ খেলাপি হওয়ার তথ্য রয়েছে।

একীভূত হওয়া ৫ ব্যাংকের আমানতকারীদের দুই বছরের মুনাফা না দেওয়ার বিষয়ে গতকাল রোববার পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন নির্বাহী পরিচালক, শরিয়াহ ভিত্তিক পরিচালিত একটি ব্যাংকের এমডি, অপর একটি ব্যাংকের ডিএমডি এবং সাবেক একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাদের সবাই মত দিয়েছেন, শরিয়াহ মানদণ্ড অনুযায়ী কোনোভাবেই মুনাফা না দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিবেচনাধীন থাকায় কেউ নাম প্রকাশ করেননি।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরেও এ নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে। এ রকম অবস্থায় গত সপ্তাহে দেওয়া সিদ্ধান্তে পরিবর্তন করার পক্ষে কেউ কেউ। তা না হলে আমানত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। গত ১৪ জানুয়ারি সব ব্যাংকের প্রশাসককে চিঠি দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সব আমানতের কোনো মুনাফা নেই বিবেচনা করা হবে।

ইসলামী ব্যাংকিং বিষয়ে অভিজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশের শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো সঞ্চয়ী ও মেয়াদি আমানত নেয় ‘মুদারাবা’ পদ্ধতিতে। আর চলতি আমানত নেয় ‘আল-ওয়াদিয়াহ’ পদ্ধতিতে। মুদারাবা পদ্ধতিতে আমানতকারী ‘সাহিব-আল-মাল’ তথা মূলধন সরবরাহকারী হিসেবে বিবেচিত হয়। আর ব্যাংক ‘মুদারিব’ তথা ব্যবস্থাপক হিসেবে বিবেচিত হয়। এখানে আমানত রাখার সময় মুনাফার কত শতাংশ দেওয়া হবে সে বিষয় চুক্তিতে উল্লেখ থাকে। কোনো কারণে ব্যবসায় লোকসান হলে আমানতকারীকে লোকসানের ভাগ নিতে হয়। তবে ব্যাংকের দায়িত্বে অবহেলা বা বিশ্বাস ভঙ্গের কারণে লোকসান হলে পুরো দায়ভার মুদারিব তথা ব্যাংকের ওপর বর্তাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে দেশের ইসলামী ব্যাংকগুলো বাহরাইন-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড অডিটিং অর্গানাইজেশন ফর ইসলামিক ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন্স বা আওফির শরিয়াহ মানদণ্ড মেনে চলে। সে অনুযায়ী, মুদারাবা চুক্তি একটি ‘ট্রাস্টভিত্তিক’ চুক্তি। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ব্যবসায় লোকসান হলে মুদারিব তথা ব্যাংক দায়ী থাকবে না। তবে মুদারাবা তহবিল ব্যবহারে অসদাচরণ, অবহেলা বা চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের মতো বিশ্বাস ভঙ্গের ঘটনা ঘটলে মুদারিব তথা ব্যাংক পুরো মূলধনের জন্য দায়ী হবে।

জানতে চাইলে সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ডের সদস্য ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী বলেন, শরিয়াহ বোর্ড এ নিয়ে বসেছে। তবে পরিপূর্ণ মতামতের জন্য আরও দুই-তিন দিন লাগবে। মতামত দেওয়ার জন্য বিভিন্ন তথ্য চাওয়া হয়েছে। এখানে শরিয়াহর অনেকগুলো দিক আছে। এখন সমাধান কী হবে সেটা নিয়ে আরেকটু সময় লাগবে।

Facebook Comments Box
বিষয় :
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us
সম্পাদক
শেখ জাহাঙ্গীর আলম
যোগাযোগ