বৃহস্পতিবার ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

ইরানের তেল রপ্তানির কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   |   শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১৯ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ইরানের তেল রপ্তানির কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

পারস্য উপসাগরে অবস্থিত খার্গ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। দেশটির মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ এই দ্বীপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়।

ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই দ্বীপে দেশটির প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল রয়েছে। ইরানের বিভিন্ন তেলক্ষেত্র থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল এখানে এনে সংরক্ষণ করা হয়। পরে সেখান থেকে ট্যাংকার জাহাজে করে তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়।

খার্গ দ্বীপে তেল সংরক্ষণাগার, পাইপলাইন ও জাহাজে তেল তোলার জেটির বিস্তৃত অবকাঠামো রয়েছে। এ কারণে দ্বীপটি ইরানের জ্বালানি খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘চোক পয়েন্ট’ হিসেবে বিবেচিত হয়। এখানে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তা সরাসরি ইরানের তেল রপ্তানি ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে।

এর কৌশলগত গুরুত্বের কারণে অতীতেও দ্বীপটি সংঘাতের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ১৯৮০-এর দশকে ইরান–ইরাক যুদ্ধের সময় ‘ট্যাংকার যুদ্ধ’ নামে পরিচিত পর্বে খার্গ দ্বীপে একাধিক হামলা চালানো হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল ইরানের তেল রপ্তানি ব্যাহত করা।

দশক পেরিয়ে গেলেও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে খার্গ দ্বীপ এখনো ইরানের জ্বালানি রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

খার্গ দ্বীপের সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের খার্গ দ্বীপের ‘প্রতিটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছে’ আমেরিকা। এই দ্বীপ থেকে ইরানের প্রায় সব অপরিশোধিত তেল রপ্তানি পরিচালনা করা হয়।

দ্বীপটির তেল অবকাঠামোতে হামলা চালানো হয়নি বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে সতর্ক করে দিয়েছেন, ‘যদি ইরান, বা অন্য কেউ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ যাতায়াতের ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করার জন্য কিছু করে তবে’ তিনি এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবেন।

মার্কিন নৌবাহিনী কখন হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করা ট্যাংকারগুলোকে পাহারা দেয়া শুরু করবে জানতে চাইলে ট্রাম্প শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি শিগগিরই ঘটবে।’

শনিবার ইরানের সংবাদমাধ্যম দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর বরাতে জানিয়েছে, ইরানের তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোতে আক্রমণ করা হলে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করা তেল কোম্পানিগুলোর মালিকানাধীন জ্বালানি অবকাঠামোতে পালটা হামলা চালাবে ইরান।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্রতর হওয়ার পর খার্গ দ্বীপ দখল করার কথাও উড়িয়ে দিচ্ছে না ট্রাম্প প্রশাসন।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই এবং ডয়েচে ভেলে

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us
সম্পাদক
শেখ জাহাঙ্গীর আলম
যোগাযোগ