
জাতীয় ডেস্ক | সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | ৫৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়া প্রশাসনিক ভবন অবরুদ্ধ করে রাখায় সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রক্টরিয়াল বডি। আজ সোমবার সকালে নিজের ফেসবুকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক। একই সঙ্গে সাময়িক বিড়ম্বনার জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।
কর্মবিরতির কারন জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলেন, ২৪ ঘণ্টার বেশি অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছি। শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কোনো খাবার নেই, পোশাক পরিবর্তন করা হয়নি এবং এভাবে রাতযাপনের পর অনেকেই ঠান্ডাজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। এই অবস্থায় পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা অসম্ভব।
তিনি আরও বলেন, কথায় কথায় প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে এবং বাহিরে ভালো সংবাদ বহন করে না। আন্দোলনের অযৌক্তিক প্রবণতা থেকে সরে না আসা পর্যন্ত আমরা কার্যক্রম থেকে বিরত থাকব।
এর আগে গতকাল রোববার বৃত্তির দাবিতে ভবনে তালাবন্ধ অবস্থায় রাতভর অবরুদ্ধ থাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশেষ বৃত্তির দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০তম ব্যাচের (২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে তালাবদ্ধ করে রাখেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন, প্রক্টর অধ্যাপক ড তাজাম্মুল হক, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড গিয়াসউদ্দিনসহ ২৫-৩০ জন প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ থাকেন।
জানা যায়, ভিসিসহ প্রশাসনিক বডি সকলেই অবরুদ্ধ হয়ে কার্যালয়েই রাত কাটান। গতকাল রোববার সকাল ১০টা থেকে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
গতকাল বিকেল ৩টার দিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন। তিনি বলেন, আমার একার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনোকিছু হবে না। এটা ১ মিনিটে নেওয়ার মতো সিদ্ধাতও নয়। আমরা কমিটির সকলের সঙ্গে আলোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব সমাধানের চেষ্টা করব।
এর আগে সকালে আবাসন ভাতার দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ভবনের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি কলাভবন, শহীদ সাজিদ ভবন ও বিজ্ঞান অনুষদের সামনে দিয়ে প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।
