রবিবার ২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

সাভার-আশুলিয়ায় জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ে পোশাক শিল্পে উৎপাদন বিপর্যয়

অর্থনীতি ডেস্ক   |   শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

সাভার-আশুলিয়ায় জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ে পোশাক শিল্পে উৎপাদন বিপর্যয়

জ্বালানি তেলের সংকট ও দাম বৃদ্ধির কারণে শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ার পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে পোশাক কারখানাগুলোতে ব্যাপক লোডশেডিং ও জ্বালানি তেলের সংকটে উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। অধিকাংশ কারখানায় শতকরা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ উৎপাদন কম হচ্ছে।

শনিবার সকালে সাভার পৌর এলাকায় অবস্থিত বৃহত্তর শিল্প প্রতিষ্ঠান জে.কে গ্রুপের কারখানায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের নিজস্ব গ্যাসচালিত জেনারেটর দিয়ে কারখানায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

ওই কারখানার জেনারেল ম্যানেজার মাহবুব আলমজানান, জ্বালানি তেলের সংকট ও দাম বৃদ্ধির কারণে তাদের পোশাক কারখানায় উৎপাদন কম হচ্ছে। যেখানে প্রতিদিন ১ লাখ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার পিস পণ্য উৎপাদন হতো, সেখানে এখন ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার পিস পণ্য উৎপাদন হচ্ছে।

তিনি বলেন, শুধু উৎপাদনই নয়, জ্বালানি সংকটের কারণে তৈরি পণ্য শিপমেন্টের জন্য চট্টগ্রামে পাঠাতে পণ্যবহনকারী কাভার্ড ভ্যান তেলের জন্য পথিমধ্যে আটকে পড়ছে। ফলে সময়মতো পণ্য ডিপোতে পৌঁছাতে পারছে না। এই সমস্যাটাই এখন প্রকট আকার ধারণ করছে। শুধু আমাদের নয়, এ রকম অবস্থা আরও বড় বড় কারখানারও হচ্ছে। এ কারণে অনেক কারখানার মালিককে তৈরি পণ্য নিজ খরচে এয়ারে পাঠাতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ব্যাপক লোডশেডিংয়ের কারণে গ্যাস দিয়ে জেনারেটর চালাতে গিয়েও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করছে না। ফলে পোশাক কারখানার মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

সাভারের কর্ণপাড়া এলাকায় অবস্থিত স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের স্টিচেস লিমিটেড পোশাক কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের নিজস্ব জেনারেটর দিয়ে কারখানায় উৎপাদন করছে। ওই কারখানার প্রধান উৎপাদন পরিকল্পনা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, এভাবে আর কয়েকদিন চলতে থাকলে পোশাক কারখানা চালানো কষ্টকর হয়ে পড়বে। এ কারখানায় প্রায় ১,৫০০ শ্রমিক রয়েছে।

প্রতিদিন এ কারখানায় ১৫ থেকে ২০ হাজার পিস পণ্য উৎপাদন হলেও এখন কমে ১০ হাজারে নেমে এসেছে বলে জানান তিনি।

সাভারের হেমায়তেপুরে অবস্থিত বৃহত্তর পোশাক কারখানা একে এইচ গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক ফরিদুল আলম জানান, জ্বালানি সংকট ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং ব্যাপক লোডশেডিংয়ের জন্য প্রতিদিন গড়ে শতকরা ১০% উৎপাদন কম হচ্ছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে জ্বালানি সংকটের কারণে পণ্য বহনে পরিবহন সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, পোশাক উৎপাদন কিছুটা কম হলেও সমস্যা নেই, কিন্তু উৎপাদিত পোশাক সময়মতো শিপমেন্ট না করতে পারলে বড় সমস্যা। জ্বালানি তেলের অভাবে সকালের পণ্য বোঝাই কাভার্ড ভ্যান বিকেলে পাঠাতে হচ্ছে। কোনো কোনো সময় পথেই তেল শেষ হওয়ায় কাভার্ড ভ্যান পথে আটকে যাচ্ছে। এ কারণে সঠিক সময়ে শিপমেন্ট করা যাচ্ছে না, ফলে বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান তাদের ক্রয়াদেশ কমিয়ে দিচ্ছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে পোশাক কারখানাগুলো মহাবিপদে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পোশাক শিল্পখাত সচল রাখার জন্য সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

আশুলিয়ার নরসিংহপুরে অবস্থিত মেডলার পোশাক কারখানার শ্রমিক সুমাইয়া আক্তার বলেন, কারখানায় যতক্ষণ কাজ করি ভালোই থাকি, বাসায় গেলে বেশি সমস্যা হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের কারণে রাতে ঘুমাতে পারি না। রাতে ঘুমাতে না পারলে সংসারের কাজ করে সকালে সময়মতো অফিসে আসা কষ্ট হচ্ছে। অফিসে এসে কাজ করতে খারাপ লাগে।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us
সম্পাদক
শেখ জাহাঙ্গীর আলম
যোগাযোগ