
জাতীয় ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

কৃষকেরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন সেটা নিশ্চিত করা এবং গ্রাম ও শহরে বৈষম্য কমাতে সরকার রাজধানী ঢাকাতে পরীক্ষামূলকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার সংসদের বৈঠকে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা জানান। এর আগে বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, সরকারের অবস্থান তুলে ধরতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সাধারণত এই বিবৃতি দেওয়া হয়। দেশে জ্বালানি সংকট শুরুর পর এই মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এটা দ্বিতীয় বিবৃতি। এর আগে, জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু মার্চ মাসের পরিস্থিতি তুলে ধরে সংসদে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দিয়েছিলেন।
লোডশেডিংয়ে মানুষের কষ্টের কারণে দুঃখ প্রকাশ করে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, বর্তমানে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং দেখা যাচ্ছে, এখন যে কষ্ট স্বীকার করতে হচ্ছে, এটি আগামী সাত দিনের মধ্যেই কমে যাবে।
তিনি আরও জানান, স্বীকার করতে কোনো দ্বিধা নেই, এই উত্তপ্ত গরমে গ্রীষ্মে অনেককেই বিদ্যুৎ সমস্যায় নাজেহাল হতে হয়েছে। এই সমস্যা একদিনের নয়। এই পুঞ্জীভূত সমস্যা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের অব্যবস্থাপনার দায় সবাইকে নিতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে উৎপাদন ক্ষমতা কাগজে কলম অনেক বেশি থাকলেও বাস্তবতার সঙ্গে সেটির গরমিল রয়েছে। গতকাল বুধবার বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট, তার বিপরীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ১২৬ দশমিক ৩৫ মেগাওয়াট। অর্থাৎ দুই হাজার ৮৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে বাধ্য হতে হয়েছে।
অনিন্দ্য বলেন, এক্ষেত্রে প্রথম থেকেই সরকারের নীতি ছিল, ফসল ওঠার মৌসুমে অর্থাৎ কোনোভাবেই কৃষকেরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, ফসলের ক্ষেত্রে সেচের জন্য পর্যাপ্ত ডিজেল এবং বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্ন রাখবার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী দিয়েছিলেন। সেটি নিশ্চিত করার জন্য সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের অভাবে হয়তোবা কিছু কিছু জায়গায় লোডশেডিং হচ্ছে। এই বিষয়টি সহনীয় মাত্রায় আনতে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে এবং বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আলোচনাক্রমে রাজধানী ঢাকায় ১১০ মেগাওয়াট প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শহরের মানুষ আরামে থাকবে এবং গ্রামের মানুষ অর্থাৎ খেটে খাওয়া কৃষক কষ্টে থাকবে, এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। কারণ, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ছিল বৈষম্যহীন সমাজ। অর্থাৎ, শহর এবং গ্রামের মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকতে পারে না, সেই বৈষম্য মুক্ত করার জন্য শহরেও প্রয়োজনে লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাতে করে কৃষকেরা তাদের সেচের জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পেতে পারে।
উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও বিদুৎকেন্দ্রগুলো কেন পরিমিত বিদুৎত উৎপাদন করতে পারছে না-এমন প্রশ্ন উঠতে পারে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিদিন বাংলাদেশে ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুটের গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের সব গ্যাস কূপ মিলে প্রতিদিন ১৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করা যায়। প্রতিদিন গড়ে আমদানি হয় ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট অর্থাৎ প্রতিদিন ১১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুটে গ্যাসের ঘাটতি থাকে। চাইলেও অর্থ থাকলেও, সামর্থ্য থাকলেও গ্যাসের আমদানি বাড়াবার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, এর জন্য যে অবকাঠামো রয়েছে, সেই অবকাঠামো দ্রুত সম্প্রসারণ করা সম্ভব নয়। তারপরেও এ অবকাঠামো বাড়ানোর জন্য বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের যে অগ্রাধিকার তালিকা রয়েছে তার মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেশবাসী দেখতে সক্ষম হবে।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই আমদানিকৃত বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি এবং আরেকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিজেদের মেইনটেনেন্সের কারণে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই তারা পূর্ণ উৎপাদনে যাবে। সেক্ষেত্রে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং দেখা গেলেও আগামী সাত দিনের মধ্যেই তা কমে যাবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি দেশবাসীর কাছে আজকে এই মহান সংসদে দাঁড়িয়ে তাদের এই কষ্টের জন্য তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে আমি বিনয়ের সঙ্গে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমি শুধু আশ্বস্ত করতে চাই, সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা রয়েছে জনগণের দুঃখ কষ্ট লাঘব করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখা।’
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদ আমলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা কমে যাওয়ায়, এখন সরকারের তরফ থেকে কোনো বক্তব্য আসলে স্বাভাবিকভাবে সেখানে আস্থা অর্জন করতে দেশবাসীর কিছুটা হলে সময় লাগবে। সরকারের প্রতিটি বক্তব্যের মধ্যে স্বচ্ছতা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে যে ঘটনাটি কখনো ঘটেনি, তেমন একটি নজির সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী রাখতে চলেছেন। অর্থাৎ, বর্তমানে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের জন্য সরকার যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে। তার পরামর্শও গ্রহণ করা হয়েছে।
