মঙ্গলবার ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Advertise with us

লেবুর বেড়ে যাওয়া দাম কমেছে

অর্থনীতি ডেস্ক   |   রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৬৪ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

লেবুর বেড়ে যাওয়া দাম কমেছে

রোজা শুরুর আগে থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকা লেবুর দাম অবশেষে কমতে শুরু করেছে। গতকাল শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে খুচরা পর্যায়ে প্রতি হালি মাঝারি লেবু ৬০ থেকে ৭০ টাকায় কেনাবেচা হয়েছে। এ লেবুর দরই দুই দিন আগে ১০০ টাকার ওপর কেনাবেচা হয়েছিল। ছোট আকারে লেবুর হালি কেনাবেচা হয় ৪০ টাকায়।

কারওয়ান বাজারসহ আশপাশের কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকারে ছোট লেবুর হালি আরও কম। এলাকাভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। সরবরাহ সংকট ও ক্রেতাদের মাত্রাতিরিক্ত চাহিদার কারণে মাঝে অস্বাভাবিক হারে দাম বেড়েছিল বলে জানান ব্যবসায়ীরা। এখন দর বৃদ্ধি পাওয়ায় সরবরাহ বেড়েছে, আবার চাহিদাও কমেছে। ফলে দামও কমে এসেছে।

গত এক সপ্তাহ রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফলের পাশাপাশি লেবুর দোকানগুলোতেও ক্রেতার বেশ চাপ ছিল। রোজা শুরুর কয়েক দিন আগেই লেবু কিনেছেন ক্রেতারা। এমন কয়েকজন ক্রেতা জানান, চার-পাঁচ দিন পর রোজা শুরু হবে। তেষ্টা মেটাতে লেবুর শরবতে ইফতার করা সবার পছন্দ। সেজন্য আগেই কিনে রাখছেন। কাউকে কাউকে এক থেকে দুই ডজন, কারও কাউকে বেশি লেবু কিনতে দেখা যায়। তারপরও ক্রেতারা অভিযোগ করেন, আড়তদার ও ফড়িয়ারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

লেবুর বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, গত ৬ ফেব্রুয়ারিও ঢাকার বাজারে মাঝারি আকারের প্রতি হালি লেবু ৪০ থেকে ৫০ টাকায় কেনাবেচা হয়েছিল। এরপর ধীরে ধীরে দাম বাড়তে থাকে। রোজা শুরুর আগের দিন গত ১৩ ফেব্রুয়ারি লেবুর বাজার রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তখন মাঝারি আকারের প্রতি হালি বিক্রি হয় ১১০ থেকে ১২০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি পিস লেবুর দর ওঠে ২৮ থেকে ৩০ টাকা। প্রায় এক সপ্তাহ এ দর স্থির থাকে।

কারওয়ান বাজারে ৩৫ বছর ধরে লেবুর পাইকারি ব্যবসা করছেন জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, রোজায় দাম ভালো পাওয়া যাবে– এ আশায় চাষিরা রোজার আগে গাছ থেকে লেবু সংগ্রহ বন্ধ রাখেন। ফলে লেবুর সরবরাহ কম ছিল। এতে মাঝে দাম বেড়েছিল।

নাখালপাড়া এলাকার খুচরা ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বলেন, গত কয়েক দিন পাইকারি বাজারে দাম বেশি ছিল। এ কারণে তাঁকেও বেশি দরে বিক্রি করতে হয়েছে।

আলম মিয়া নামের ষাটোর্ধ্ব আরেক ব্যবসায়ী জানান, গত এক সপ্তাহে যারা দুই-তিন ডজন লেবু কিনেছিলেন, সেগুলো এখনও আছে। তাঁর ভাষ্য, শুধু ব্যবসায়ীকে দোষ দেওয়া চলবে না। ক্রেতারা একসঙ্গে কেন এত বেশি কিনবেন? একসঙ্গে যখন অনেক ক্রেতা আসে, পরিমাণে বেশি কেনেন, তখন তারা দর কষাকষিও করেন না। কিছু ব্যবসায়ী সেই সুযোগটি নেন। এটাই স্বাভাবিক।

গতকাল শনিবার ছন্দপতন দেখা গেছে লেবুর দামে। বাজারে লেবুর সরবরাহ দেখা গেছে পর্যাপ্ত। মাঝারি আকারের লেবুর হালি বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। এটি গত তিন-চার দিনের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। ছোট আকারের লেবুর বিক্রি হয়েছে আরও কম দামে। প্রতি হালি বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে। অর্থাৎ লেবুর এই দর ফের দুই সপ্তাহ আগের দরের কাছাকাছি দামে ফিরেছে।

লেবুর দাম নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষাপটে জানতে চাইলে কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, দাম বাড়বে বা সংকট তৈরি হবে– এ আতঙ্ক থেকেই ভোক্তারা বেশি পণ্য কেনেন। এতে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয় ও দাম বাড়ায়। তিনি বলেন, ভোক্তার উচিত, প্রয়োজন অনুযায়ী কেনাকাটা। এতে সরবরাহ ব্যবস্থাও স্বাভাবিক থাকে এবং অযথা মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ কমে যায়।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us
সম্পাদক
শেখ জাহাঙ্গীর আলম
যোগাযোগ