Advertise with us
শিরোনাম
Advertise with us

সাবেক চার এমপি-মন্ত্রীর প্রতিষ্ঠানসহ ৪৯ এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহার

জাতীয় ডেস্ক   |   মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ২৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

সাবেক চার এমপি-মন্ত্রীর প্রতিষ্ঠানসহ ৪৯ এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহার

সিন্ডিকেট করে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহার করেছে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে রয়েছে– সাবেক চার এমপি-মন্ত্রীর প্রতিষ্ঠান। আদালতে এসব এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ায় গত রোববার মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে লাইসেন্স প্রত্যাহারের বিষয়টি জানায়।

এতে বলা হয়েছে, রিক্রুটিং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইন-২০১৩ অনুযায়ী বিধিবিধান মেনে চলার বাধ্যবাধকতা আছে। তবে লাইসেন্স বাতিল করা এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৬, ৪২০, ৩৮৫, ৩৮৬, ৪২৭ ও ৩৪ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র গৃহীত হয়েছে। বাতিল হওয়া এজেন্সির মধ্যে আছে– আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ মুস্তাফা কামালের স্ত্রী ও মেয়ের মালিকানাধীন দুটি এজেন্সি অরবিটালস এন্টারপ্রাইজ ও অরবিটাল ইন্টারন্যাশনাল। ঢাকা-২০ আসনের সাবেক এমপি বেনজীর আহমেদের আহমেদ ইন্টারন্যাশনাল, ফেনী-২ আসনের সাবেক এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারীর স্নিগ্ধা ওভারসিজ লিমিটেড এবং ফেনী-৩ আসনের জাতীয় পার্টির (জাপা) সাবেক এমপি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদউদ্দিন চৌধুরীর ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল। মাসুদউদ্দিন কারাগারে রয়েছেন। লাইসেন্স প্রত্যাহারের তালিকায় রয়েছে মালয়েশিয়া সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা রুহুল আমিন স্বপনের ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল।

আইন অনুযায়ী, এজেন্সিগুলো মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আবেদন করতে পারবে। সরকার তা ৬০ দিনের নিষ্পত্তি করবে।
কর্মী পাঠাতে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে পাঁচ বছর মেয়াদি সমঝোতা স্মারক সই করে বাংলাদেশ। এই সমঝোতায় বলা হয়েছিল, বাংলাদেশের কোন কোন রিক্রুটিং এজেন্সি কর্মী পাঠাবে তা ঠিক করবে মালয়েশিয়া। ২০২২ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের ২৫ রিক্রুটিং এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর কাজ দেয়। কীসের ভিত্তিতে এসব প্রতিষ্ঠানকে বাছাই করা হয়েছিল, তা কখনও ব্যাখ্যা করেনি মালয়েশিয়া সরকার। এই এজেন্সিগুলো সিন্ডিকেট নামে পরিচিতি পায়। এই ২৫ এজেন্সির মধ্যে এমপি-মন্ত্রীর প্রতিষ্ঠান ছাড়াও আওয়ামী লীগ নেতাদের আটটি এজেন্সি ছিল। সমালোচনার পর আরও ৭৬ সহ মোট ১০১ এজেন্সিকে কাজ দিয়েছিল মালয়েশিয়া।

অনুসন্ধান অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (এফডব্লিওসিএমএস) নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বেস্টিনেট মালিক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মালয় নাগরিক আমিনুল ইসলাম নুর এবং বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা মিলে সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। বাংলাদেশ অংশে এর নেতৃত্বে ছিলেন ২৫ এজেন্সির ‘সমন্বয় করা’ রুহুল আমিন স্বপন। এই সিন্ডিকেট জুলাই অভ্যুত্থানের পর সামনে আসে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বোন শেখ রেহানা, উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ একটি শিল্পগোষ্ঠীও ছিল সিন্ডিকেটটির পেছনে।

আরও যেসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স প্রত্যাহার করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউনিক ইস্টার্ন প্রাইভেট লিমিটেড, মেসার্স শাহীন ট্রাভেলস, আরভিং এন্টারপ্রাইজ, হৃদয় ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, রাব্বি ইন্টারন্যাশনাল, জাহরাত ইন্টারন্যাশনাল, ৪ সাইট ইন্টারন্যাশনাল, বিনিময় ইন্টারন্যাশনাল, আকাশভ্রমণ লিমিটেড, কিউ কে কুইক এক্সপ্রেস লিমিটেড, ইউনাইটেড এক্সপোর্ট লিমিটেড, জিএমজি ট্রেডিং প্রাইভেট লিমিটেড, সাদিয়া ইন্টারন্যাশনাল, দ্য সুপার ইস্টার্ন লিমিটেড, এলিগ্যান্টস ওভারসিজ লিমিটেড, মিডওয়ে ওভারসিজ লিমিটেড, মদিনা ওভারসিজ, আল খামিস ইন্টারন্যাশনাল, নিউ এজ ইন্টারন্যাশনাল, দামাশি করপোরেশন লিমিটেড, গ্যালাক্সি করপোরেশন, সুলতান ওভারসিজ, প্রভাতী ইন্টারন্যাশনাল, মানিসপাওয়ার করপোরেশন, আমিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, আইএসএমটি হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট, দরবার গ্লোবাল ওভারসিজ, নাতাশা ওভারসিজ, অপরাজিতা ওভারসিজ, স্ট্যানফোর্ড এমপ্লয়মেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড, জান্নাত ওভারসিজ, বিএম ট্রাভেলস, বিএনএস ওভারসিজ লিমিটেড, রুবেল বাংলাদেশ লিমিটেড, ট্রান্স এশিয়া ইন্টিগ্রেট সার্ভিসেস লিমিটেড, আল ফারাহ হিউম্যান রিসোর্সেস অ্যান্ড কনসালট্যান্সি, ব্রাদার্স ইন্টারন্যাশনাল, থানেক্স ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, জেজি আলফালাহ ম্যানেজমেন্ট, ইমপিরিয়াল রিসোর্সেস লিমিটেড, পি আর ওভারসিজ লিমিটেড, এমইএফ গ্লোবাল বাংলাদেশ লিমিটেড ও অনন্য অপূর্ব রিক্রুটিং এজেন্সি।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertise with us

ফলো করুন Orthonity Bangladesh-এর খবর

সম্পাদক
শেখ জাহাঙ্গীর আলম
যোগাযোগ