
অর্থনীতি ডেস্ক | শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট | ২১৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

‘বেগুনের কেজি দেড়শ, বরবটি ১২০ ট্যাকা– তাইলে কী দরকার সবজি কেনার? হের চেয়ে ব্রয়লারই ভালা। দেড় কেজি নিলাম আড়াইশ ট্যাকা দিয়ে।’ একনাগাড়ে কথাগুলো বললেন, রাজধানীর নাখালপাড়া সমিতি বাজারের ক্রেতা নুর নাহার। পেশায় পোশাককর্মী এই নারী জানান, কম পছন্দ করলেও সবজির তুলনায় দাম সহনীয় থাকায় তিনি সবজির বদলে ব্রয়লার মুরগি কিনেছেন।
কারওয়ান বাজারের ক্রেতা মাঈনুল ইসলামের কথাও প্রায় কাছাকাছি। অবশ্য তিনি সবজির পাশাপাশি ব্রয়লার মুরগিও কিনেছেন। সবজি আর ব্রয়লারের দাম নিয়ে জানতে চাইলে গতকাল শুক্রবার মাঈনুল বলেন, ‘কয়েকটি সবজির দাম একশ টাকার ওপরে। ব্রয়লার কেনা যায় ১৬০-১৭০ টাকায়, তাহলে ব্রয়লার নেওয়াই তো ভালো।’
কয়েক সপ্তাহ ধরে সবজির দাম বেশি থাকায় নুর নাহার ও মাঈনুলের মতো ক্রেতাদের অনেকেরই দৃষ্টি এখন ব্রয়লার মুরগির দিকে।
গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাজধানীর তেজগাঁও কলোনি বাজার, নাখালপাড়া সমিতি বাজার, তেজকুনিপাড়া ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা দরে। আর সোনালি জাতের মুরগির কেজি বিক্রি হয়েছে ২৭০ থেকে ২৯০ টাকা দরে। গত বছরের এ সময় ব্রয়লার মুরগির কেজি ছিল ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা। সেই হিসাবে বছরের
ব্যবধানে ব্রয়লারের কেজিতে কমেছে ২০ টাকা। অন্যদিকে কোনো কোনো সবজি বিশেষ করে গত সপ্তাহে গোল বেগুনের কেজি ২০০ টাকার বেশি ছিল। ফলে ক্রেতাদের কেউ কেউ সবজির বদলে ব্রয়লার কিনছেন।
সবজির বাজার এখনও স্বাভাবিক হয়নি। গত সপ্তাহের তুলনায় কয়েকটির দর কিছুটা কমেছে। বেশির ভাগ সবজির দর আগের মতোই দেখা গেছে। তবে গত কয়েকদিন সবজির দাম বেশি থাকায় তুলনামূলকভাবে ব্রয়লার মুরগির দিকে ঝুঁকেছেন ক্রেতারা। খুচরা মুরগি ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েকদিন ব্রয়লার মুরগি বিক্রি বেশি হয়েছে। যদিও এখন আবার কমছে বলে জানান তারা।
তেজকুনিপাড়ার মুরগি ব্যবসায়ী সোহেল মিয়া জানান, অন্য সময়ের তুলনায় কয়েকদিন ধরে তার বিক্রি বেড়েছে। বিশেষ করে দৈনিক ব্রয়লার বিক্রি বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ কেজি। তবে গতকাল কিছুটা কম বিক্রি হয়েছে বলে জানান তিনি।
কারওয়ান বাজারের মা রোকেয়া চিকেন ব্রয়লার হাউসের এক বিক্রয়কর্মী জানান, কিছুদিন ধরে সবজির দাম বেশি। সেই তুলনায় মুরগির দাম বাড়েনি। অনেকেই সবজি কম কিনে ব্রয়লার কিনেছেন।
তবে সবজির খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম নির্ভর করে সরবরাহের ওপর। গত কয়েকদিনের তুলনায় কাঁচামরিচ ও সবজির সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। ফলে দুই-তিনটি সবজির দর কিছুটা কমেছে। সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে কাঁচামরিচের বাজারে। গত সপ্তাহে কাঁচামরিচের কেজি বিক্রি হয়েছিল ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা দরে। গতকাল দাম অর্ধেকে নেমেছে। প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা দরে। ভারত থেকে কাঁচামরিচের আমদানি বাড়ার কারণে দাম কমেছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
এ ছাড়া খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি গোল বেগুন বিক্রি হয়েছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায়। গত সপ্তাহে এ দর ছিল ২০০ থেকে ২২০ টাকা। গত সপ্তাহের ৭০ থেকে ৯০ টাকার ঢ্যাঁড়শ গতকাল বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। সেই হিসাবে চলতি সপ্তাহে প্রতি কেজি গোল বেগুনের দর ৬০ থেকে ৮০ এবং ঢ্যাঁডশে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে। করলা ও চিচিঙ্গার কেজি গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে যথাক্রমে ৯০ থেকে ১১০ ও ৬০ থেকে ৭০ টাকা। তবে গত সপ্তাহের মতোই ঝিঙা ও ধুন্দুলের কেজি কিনতে ক্রেতার খরচ হবে কেজিতে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। এ ছাড়া এখনও বরবটি ১০০ থেকে ১২০, লম্বা বেগুন ৮০ থেকে ১০০, পটোল ৬০ থেকে ৮০, টমেটো ১৩০ থেকে ১৪০ এবং চায়না গাজর ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আগের মতোই পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা ও আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাংলাদেশ কাঁচামাল আড়ত মালিক সমিতির সভাপতি ইমরান মাস্টার বলেন, সবজি মজুত রাখা যায় না। এর দাম বাড়া কমা নির্ভর করে সরবরাহের ওপর। বাজারে এখন যেসব সবজি বেশি আসছে সেগুলোর দর কমছে। যেগুলো
কম আসছে সেগুলো কেনার জন্য খুচরা ব্যবসায়ীদের হিড়িক লেগে যায়। ফলে দরও বেড়ে যায়। তবে আগামী মাসের মধ্যে শীতের সবজি আসা শুরু হলে দাম কমে যাবে বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে চাল, আটা, ভোজ্যতেল, ডালসহ অন্য নিত্যপণ্যের দর গত সপ্তাহের মতোই স্বাভাবিক দেখা গেছে। একই পরিস্থিতি দেখা গেছে মাছের বাজারেও।
