Advertise with us
শিরোনাম
Advertise with us

ভারতে ফুসফুসের ক্যান্সার চিকিৎসায় যুক্ত হলো ইমিউনোথেরাপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   |   মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৬০ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ভারতে ফুসফুসের ক্যান্সার চিকিৎসায় যুক্ত হলো ইমিউনোথেরাপি

ভারতে ফুসফুসের ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে একটি নতুন ইনজেকশনভিত্তিক ইমিউনোথেরাপি। ‘টিসেনট্রিক’ নামের এই ওষুধ বাজারে এনেছে রোশ ফার্মা ইন্ডিয়া। প্রচলিত শিরায় (আইভি) দীর্ঘ সময় ধরে ওষুধ দেওয়ার পরিবর্তে নতুন এই চিকিৎসা মাত্র সাত মিনিটে ত্বকের নিচে ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি রোগীদের জন্য যেমন স্বস্তিদায়ক হবে, তেমনি হাসপাতালের ওপর চাপও কমাবে। তবে ওষুধটির অত্যন্ত উচ্চমূল্য নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। প্রতি ডোজের দাম প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার রুপি। অধিকাংশ রোগীর ছয়টি পর্যন্ত ডোজ প্রয়োজন হতে পারে। ফলে পুরো চিকিৎসার খরচ কয়েক লাখ রুপিতে পৌঁছাতে পারে।

এই চিকিৎসা মূলত নন-স্মল সেল লাং ক্যানসার (এনএসসিএলসি) রোগীদের জন্য। ভারতে ফুসফুসের ক্যানসারের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। নতুন ইনজেকশনে ব্যবহৃত হয়েছে ‘অ্যাটেজোলিজুম্যাব’ নামের ওষুধ, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে লড়তে সহায়তা করে।

জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট হাসপাতালের একজন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ বলেন, ইমিউনোথেরাপি এখন বিশ্বজুড়ে ক্যানসার চিকিৎসায় বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে। ভারত, চীন, জাপান, সৌদি আরবসহ অন্তত ৩০টির বেশি দেশে বিভিন্ন ধরনের ইমিউনোথেরাপি অনুমোদিত ও ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে ফুসফুসের ক্যানসারে যেসব রোগীর শরীরে পিডিএল ওয়ান-এর মাত্রা বেশি, তাদের ক্ষেত্রে এ ধরনের চিকিৎসা ভালো ফল দিচ্ছে। সাত মিনিটের ইনজেকশন রোগীদের ভোগান্তি অনেক কমাবে। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসার উচ্চ ব্যয় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক রোগী প্রয়োজনীয় ইমিউনোথেরাপি নিতে পারেন না শুধুমাত্র খরচের কারণে।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন বলেন, অনেক আগ থেকেই বাংলাদেশে ইমিউনোথেরাপি ব্যবহার হয়ে আসছে। এটি নতুন নয়। কেমোথেরাপির তুলনায় ইমিউনোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম। ফলে রোগীরা শারীরিকভাবে কিছুটা স্বস্তিতে থাকেন।

চিকিৎসকেরা জানান, এই ওষুধটি PD-L1 নামের একটি প্রোটিনকে ব্লক করে কাজ করে। সাধারণত ক্যানসার কোষ এই প্রোটিন ব্যবহার করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার চোখ ফাঁকি দেয়। প্রোটিনটি বন্ধ হয়ে গেলে শরীরের প্রতিরোধক কোষগুলো ক্যানসারকে শনাক্ত করে আক্রমণ করতে পারে। যেসব রোগীর টিউমারে PD-L1-এর মাত্রা বেশি, তাদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা বেশি কার্যকর হতে পারে।

Facebook Comments Box
Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertise with us

ফলো করুন Orthonity Bangladesh-এর খবর

সম্পাদক
শেখ জাহাঙ্গীর আলম
যোগাযোগ