
অর্থনীতি ডেস্ক | শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট | ৯১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে ঘিরে দেশে জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য সংকট ও দাম বাড়ার আশঙ্কায় রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গত কয়েকদিন ধরে তেল নিতে ভিড় করছেন ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের চালকরা। তবে আজ শনিবার পরিস্থিতি বেশি জটিল আকার ধারণ করেছে। সকাল ১০টার পরই মজুত শেষ হওয়ায় ঢাকার অনেক পেট্রোল পাম্প তেল বিক্রি বন্ধ করে দেয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। গুজব ও আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল কেনা এবং সরকারি ছুটির কারণে ডিপো থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনেক পাম্পে সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজ সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে গাড়ি ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। কোথাও কোথাও তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় পাম্প বন্ধ রাখতে হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, সংসদ ভবনের পাশের তালুকদার পাম্পের সামনে গাড়ির সারি জিয়ার মাজারসংলগ্ন লেকের মোড় পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছে। আসাদগেট এলাকার একটি ফিলিং স্টেশন থেকে লাইন গেছে প্রিপারেটরি স্কুল পর্যন্ত। শাহবাগের মেঘনা পাম্পেও একই চিত্র দেখা গেছে—গাড়ির সারি পিজি হাসপাতাল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক জায়গায় গাড়ি ও মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা দুই লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে চালকদের।
রাজধানীর মালিবাগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নজরুল ইসলাম বলেন, গতকাল কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল পাইনি। তাই আজ সকালে বের হয়েছি। কিন্তু বেলা ১১টা পর্যন্ত কয়েকটি পাম্প ঘুরেও তেল পাইনি। সবাই বলছে, গত দুই দিনে অতিরিক্ত তেল ওঠানোর কারণে অনেক পাম্পের মজুত শেষ হয়ে গেছে।
পেট্রোল পাম্প মালিকদের দাবি, আতঙ্কের কারণে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় গত দুই দিনে অনেক বেশি তেল বিক্রি হয়েছে। এতে করে অনেক পাম্পে মজুত দ্রুত শেষ হয়ে গেছে। বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির একাংশের সভাপতি নাজমুল হক বলেন, অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল নিয়েছেন। ফলে বেশ কয়েকটি পাম্পে তেল ফুরিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় সাধারণত তেলবাহী গাড়ি চলাচল করে না এবং পাম্পে সরবরাহও বন্ধ থাকে। তবে সেচ মৌসুমে মার্চ থেকে মে পর্যন্ত এ নিয়ম শিথিল করা হয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা করা হয়নি। এতে পাম্প মালিকরা সমস্যায় পড়েছেন। নাজমুল হক বলেন, গ্রাহকরা মনে করছেন, আমরা ইচ্ছা করে তেল দিচ্ছি না। অথচ দুপুরের মধ্যেই পাম্পের তেল শেষ হয়ে যায়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসে তা যাচাইও করেছে।
তেলের কোনো অভাব নেই
আজ শনিবার তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে জ্বালানির সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে অবহিত করেন বিদ্যুৎ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এরপর তারা সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে জানিয়ে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, অনেকে আতঙ্কিত হয়ে বাড়তি তেল সংগ্রহ করছেন। যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে একটা অনিশ্চয়তা রয়েছে বিধায় রেশনিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু মানুষ এই রেশনিংটাকে ভয় পেয়ে স্টক করা শুরু করেছে। আসলে আমাদের তেলের কোনো অভাব নেই।
তিনি আরও বলেন, আগামী ৯ মার্চ আরও দুইটা ভ্যাসেল আসছে, সুতরাং তেলের কোনো সমস্যা নাই। আমি সবার কাছে অনুরোধ করব, এই তাড়াহুড়া করে তেল কেনার দরকার নেই। আমরা পেট্রোল পাম্পে তেল দিচ্ছি এবং চলবে, এটার জন্য লাইন দিয়ে সারারাত জাগার কোনো প্রয়োজন নেই। সাধারণভাবে পাম্পে গেলে তেল পাওয়া যাবে।
কিছু কিছু পাম্পে তেল না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তো নির্দিষ্ট পরিমাণে তেল দিচ্ছি। এখন কোনো পাম্প যদি জলদি বিক্রি করে ফেলে তারপরে তো আর পাবে না, তার পরের দিন ওয়েট করতে হবে। সেটার জন্য আমরা মনিটর করছি। আমরা দেখব; যাতে এরকম না হয়।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনও জানিয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের মজুত ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতার কারণেই কিছু পাম্পে সাময়িক সংকট দেখা দিয়েছে।
